সখীপুরের ভাষাপ্রেমী এক মায়ের সঞ্চিত অর্থে শহীদ মিনার নির্মাণ

ভাষা ও ভাষা শহীদদের প্রতি কতটা শ্রদ্ধা থাকলে নিজের জীবনের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করা যায় তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বেগম আলেয়া ফেরদৌসী নামের এক শিক্ষিকা। তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রতিমাবংকী গ্রামের প্রয়াত এসএম আজহারুল ইসলামের স্ত্রী। তার স্বামী এসএম আজহারুল ইসলামও একজন শিক্ষক ছিলেন। বেগম আলেয়া ফেরদৌসী তার গ্রামের প্রতিষ্ঠিত প্রতিমাবংকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিয়েছেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ওই স্কুলে কোনো শহীদ মিনার ছিল না। সখীপুর উপজেলা হতে তিন কি.মি. দূরে অবস্থিত ওই স্কুলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় স্কুলের ভবন ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে শহীদ মিনারটি। সঞ্চিত অর্থে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বেগম আলেয়া ফেরদৌসীর প্রতি। এছাড়া এলাকাবাসীও ওই শিক্ষিকাকে তার ভালো কাজের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে তারা এই প্রথমবারের মতো নিজেদের স্কুলেই ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবে বলে। এ ব্যাপারে বেগম আলেয়া ফেরদৌসী বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ও মাতৃভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে সবারই জানা থাকা দরকার। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সকলের উচিত্। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার পর হতে কলাগাছ, বাঁশ ও রঙিন কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন তিনিই প্রথম শুরু করেন। কিন্তু তার মনে-প্রাণে স্থায়ী একটি শহীদ মিনার নির্মাণের প্রয়াস ছিল দীর্ঘদিনের। সেটিরই বাস্তবায়ন করেছেন তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে। এখানেই সকলে সমস্বরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি গানটি গাইবেন।