খনন না করায় ভরাট হয়ে গেছে গৌরনদীর অধিকাংশ খাল

 

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা

গৌরনদী উপজেলার প্রায় ৪০টি জনগুরুত্বপূর্ণ খাল শুকিয়ে গেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনেও ওইসব খাল খনন না করায় পানির অভাবে দীর্ঘ ৫/৭ বছর ধরে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে অর্ধশতাধিক ইরি ব্লকের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমি। কোনো কোনো ইরি ব্লক আরোও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এ কারণে বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল ওইসব ব্লকের আওতাধীন কয়েক হাজার চাষি।

সরেজমিন দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গৌরনদীর অধিকাংশ খাল খনন না করার কারণে ভরাট হয়ে গেছে। কিছু খালে অমাবশ্যা পূর্ণিমায় পানি উঠলেও অন্যান্য সময় শুকিয়ে যায়। ১৫/২০টি খালে স্লুইস গেট বসানোর কারণে তাতে পানি চলাচল এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে। খালে পানি না থাকার কারণে ১০/১২ বছর ধরে গৌরনদীর গয়নাঘাটা, পিংগলাকাঠি, বড়দুলালি, বার্থী খালসহ ৮/১০টি খালের গোড়ায় (নদী বা বড়খালের সংযোগস্থলে) পাম্প মেশিন বসিয়ে ডাবল লিফটিং প্রক্রিয়ায় বোরো চাষের সেচ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে।  গ্রামের ব্লক ম্যানেজার এমদাদ হাওলাদার, শাহজাহান মুন্সী, মাহাবুব হাওলাদার ও হালান তালুকদার জানান, বার্থী-কমলাপুর খালে পানি না থাকায় তার (শাহজাহান) কাছ থেকেই ব্লকের পরিধি অনুযায়ী প্রতি মৌসুমে ৭০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা চুক্তিতে স্থানীয় ১৫টি ব্লক ম্যানেজার পানি কিনে খালে সেচ পাম্প বসিয়ে চাষিদের জমিতে পানি সরবরাহ করে আসছিল। ব্লক ম্যানেজার এমদাদ হাওলাদার বলেন, জুরগাঁও এলাকা থেকে পানি ক্রয়ের পর পুনরায় খালে সেচ পাম্প বসিয়ে জমিতে পানি সরবরাহ করে প্রতিবছর তাদের চরম লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছিল। তাই গত তিন বছর ধরে তারা বোরো ব্লক ছেড়ে দিয়েছেন। স্থানীয় চাষি বিএম নান্নু বলেন, বাঘমারা, কমলাপুর, বাহ্মণগাঁও এলাকায় পানির অভাবে অনাবাদি থাকা ১৫টি ব্লকের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে ভূরঘাটা পানের হাট থেকে বাঘমারা বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ও কমলাপুর-ইল্লা খালের বাঘমারা বড়দুলালী থেকে তুলাতলা বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খাল খনন করার কোনো বিকল্প নেই। 

এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মামুনুর রহমান বলেন, গৌরনদীর বহু খালে পানি সঙ্কট রয়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে খাল খননের কোনো বিকল্প নেই। তাই বোরো চাষের প্রধান সমস্যা সেচ সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকার খাল খননের জন্য উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।