আড়াইহাজারে পাওয়ারলুম ব্যবসার মন্দাভাব কাটছে না

আড়াইহাজার উপজেলার সর্বত্র পাওয়ারলুম ব্যবসায় ধস নেমেছে। কোনো অবস্থাতেই এই ব্যবসার মন্দাভাব কাটছে না। অনেক ব্যবসায়ী ক্রমাগত লোকসানের চাপে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। যারা টিকে আছেন তারা একরকম লড়াই করেই টিকে আছেন।

জানা গেছে,  গোপালদী ও আড়াইহাজার এলাকার প্রধান ব্যবসা হলো পাওয়ারলুম। এই ব্যবসায় ধস নামায় সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। রামচন্দ্রদী গ্রামের পাওয়ারলুম ব্যবসায়ী সিরাজ প্রধান জানান, প্রতিমাসে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে। গত তিন চার মাসে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুণে তার ব্যবসার এখন নিভু নিভু অবস্থা। তিনি বলেন, “সপ্তাহের দুইটি হাটবারে (মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার) বেচাকেনা নেই বললেই চলে। আগে প্রতি সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ পেটি গ্রে-কাপড় বিক্রি করতাম। ভালই আয় হতো। এখন সপ্তাহে ৫ থেকে ১০ পেটিও গ্রে-কাপড় বিক্রি হয় না। বাজার মন্দা হওয়ায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে পার্টিরা আর আড়াইহাজার উপজেলায় আসছেন না। বেচাকেনা কমে যাওয়ার এটাই বড় কারণ। তবু ধার-দেনা করে আমাদের টিকে থাকার লড়াই চলছে।” 

আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামের আলতাফ জানান, গত কয়েক মাস ধরে আর্থিক সংকটের কারণে পাওয়ারলুম সেক্টরে বিরাজ করছে চরম মন্দাভাব। অনেক ছোট ও মাঝারি আকারের মিল বন্ধ হয়ে গেছে; কিন্তু মাথার উপর রয়েছে ব্যাংক ঋণের কিস্তির বোঝা।

ব্যবসায়ী মজিবুর হাজী জানান, তিনি অনেক বছর ধরে পাওয়ারলুমের ব্যবসা করেন। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে  ও  স্থানীয় বাজারে তার কাপড় বিক্রি হয়। ঢাকার পোস্তগোলা, শ্যামপুর, কদমতলি, রসুলপুর, জুরাইন ও আশপাশ এলাকা থেকে পার্টিরা এসে আড়াইহাজার থেকে গ্রে-কাপড় কিনে নিয়ে যায়। গ্রে-কাপড় কিনে নিয়ে তারা ডাইং-এ দিয়ে দেয়। ডাইং-এ গ্রে-কাপড়কে প্রথমে সেলাই করে রুলারের মতো পেঁচানো হয়। কারণ গ্রে-কাপড়গুলো সাধারণত পিস আকারে কিনতে হয়। একপিস কাপড় লম্বায় ৬ গজ। এজন্য গ্রে-কাপড়ের পিসগুলোকে প্রথমে সেলাই করে জোড়া দিতে হয়। এরপর মাড় দিয়ে ফিনিশিং করার পর তা পাঠানো হয় ছাপাখানায়। রুলার বানানোর পর রিজেক্ট বের হলে পার্টি সেই কাপড় ফেরত দেয়। সামান্য রিজেক্ট পেলেও বড় বড় পার্টি কাপড় ফেরত পাঠায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই গুণতে হয় লোকসান। রিজেক্ট গ্রে-কাপড় ছোট ছোট পার্টি কেনে। পিস প্রতি ২০/৩০ টাকা ছাড় দিয়ে বিক্রি করে ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে হয়; কিন্তু বর্তমানের মতো এরকম মন্দা বাজার আর দেখিনি।