স্পোর্টস রিপোর্টার
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসে ট্রফি জিতে নিন্দুকের মুখে ছাই দিতে চেয়েছিলেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ক্লাবটি ছাড়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর তিনি এই কথা বললেন।
সুইডিশ এই স্ট্রাইকার ২০১৬ থেকে ২০১৮ অবধি খেলেছেন রেড ডেভিলদের হয়ে। মেজর লিগ সকারের ক্লাব এলএ গ্যালাক্সিতে যাওয়ার আগে তিনি ইউনাইটেডের হয়ে জয় করেন এফএ কাপ ও ইউরোপা লিগের শিরোপা।
এতদিন বাদে জ্লাতান জানালেন, সমালোচনাগুলো তাঁতিয়ে তুলেছিল তাকে। বললেন, ‘ওই সময় আমার বয়সটাই ছিল বড় একটা চ্যালেঞ্জ। ইংল্যান্ডে যখন আসছিলাম, তখন সবাই বলছিল যে, আমি নাকি যথেষ্ট ভালো নেই। সেই কথাগুলো আমাকে তখন ক্ষেপিয়ে দিয়েছিল। তিন মাস পরে ওই সমালোচকরাই বাধ্য হয়ে নিজেদের কথা হজম করে ফেলেছি। আমার সবসময়ই নতুন কিছু নিন্দুক প্রয়োজন হয়, কারণ পুরনোরা কিছুদিন বাদেই আমার ভক্ত হয়ে যায়।’
ইউনাইটেডের জন্য জ্লাতান ছিলেন অনেকটা ‘কাল্ট হিরো’র মতো। মানে বড় সাফল্য না থাকার পরও তিনি ছিলেন বড় এক তারকা। ওই বয়সেও অবশ্য ইউনাইটেডের হয়ে তার পারফরম্যান্সটা মন্দ ছিল না। ৫৩ ম্যাচে করেছেন ২৯টি গোল। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে জ্লাতান বলেন, ‘আমি ইউনাইটেডের আগে যেখানেই গিয়েছি, জয় পেয়েছি। এটা আমার জন্য আনন্দদায়ক একটা ব্যাপার। ইংল্যান্ডেও সেই একই ঘটনা ঘটেছে। জয়টা আমার ডিএনএ-তেই আছে। আমি জয় চাই — এটাই আমার মানসিকতা। আমি হারকে ঘৃণা করি। হারলেও আমি খারাপ নই, তবে আমি হারতে ঘৃণা করি, জিততে ভালোবাসি।’
ইউনাইটেডে গিয়েই ট্রফি জয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন জ্লাতান। বললেন, ‘আমি বলেছিলাম আমি জিতবো। আমি কথা রেখেছি। ইউনাইটেডের হয়ে আমি দু’টো ট্রফি জিতি। ওরাই এখন আমার হয়ে কথা বলে। ইউনাইটেডের হয়ে প্রথম মৌসুমটা ছিল অসাধারণ। আমি সময়টা উপভোগ করছিলাম। সবাই খুব খুশি ছিল। ক্লাবও আমাদের ভালো দেখভাল করছিল। ফলে, পারফর্ম করা আমার জন্য সহজ ছিল। সময় হলেই আমি বুটজোড়া পায়ে দিয়ে কিছু একটা করে আসতাম। তবে শুরুতে কেউ আমাকে বিশ্বাস করেনি। আমি ইউনাইটেডে গিয়েই বলেছিলাম, আমি ইংল্যান্ড জয় করতে চাই। সবাই আমার কথায় হেসেছিল। আমি অবশ্য কথাগুলো মজা করে বলিনি।’
ইউনাইটেডের সমর্থকদেরও মনে আছে জ্লাতানের। ৩৭ বছর বয়সী বিচিত্র এই চরিত্র বলেন, ‘ইউনাইটেডের সমর্থকরা দারুণ। ওখানে খেলেছি বলে বলছি না। আমি এখন বুঝতে পারি যে, নিজেদের দলের খেলোয়াড়কে কিভাবে আপন করে নিতে হয় সেটা ওরা জানে। ওল্ড ট্রাফোর্ড সব সময় সমর্থককে পরিপূর্ণ থাকে। ওদের সব সময় দেখা যায়, সব সময় ওরা সমর্থন যোগায়।’