কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় কেরোসিনের আগুনে জখম হয়ে ৮ বছরের শিশু রিফাত এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আগুনে তার শরীরের ৮০ শতাংশ ঝলসে গেছে। সোমবার গভীর রাতে রিফাতকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। রিফাত কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার জলম ইউনিয়নের চিতড্ডা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। তাকে আগুনে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সত্মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ রিফাতের বাবা ও সত্মাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে রিফাতের মা তার বাবাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। পরে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে খোদেজা বেগমকে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। রিফাতের বাবা খালেক মিয়া জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাগমারা এলাকায় একটি হোটেলে কাজ করেন। তিনি বাগমারা এলাকার আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে ভাড়া নিয়ে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিবেশী বলেন, রিফাত একটু দুষ্টু প্রকৃতির হওয়ায় তাকে প্রায়শই মারধর করতেন খোদেজা। সোমবার বিকালে তিনি রিফাতকে ঘরের ভেতর রশি দিয়ে বেঁধে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে শুনেছি। সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক মো. তফাজ্জল হোসেন বলেন, রিফাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শিশুটির বাবা-মা দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।