সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারতকে সহায়তা করা হবে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গতকাল বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুবরাজ এই কথা বলেন। তিনি ভারতে ১শ’ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগেরও ঘোষণা দেন।
যুবরাজ বিন সালমান জানিয়েছেন, চরমপন্থা এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে সৌদি আরব ভারতকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে যুবরাজ বলেন, সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের সঙ্গে তারাও উদ্বিগ্ন। তিনি কাশ্মিরে সামপ্রতিক সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানান। তবে তিনি এক্ষেত্রে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি শতাব্দী ধরে চলা ভারত ও সৌদির মধ্যকার সম্পর্ক আরো উন্নত হবে বলে জানান।
বিন সালমান ভারতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। ভারত সৌদি আরবের কৌশলগত অংশীদার ৮টি দেশের মধ্যে অন্যতম। মঙ্গলবার রাতে দুই দিনের সফরে ভারতে আসেন যুবরাজ। প্রধানমন্ত্রী মোদী কাশ্মিরে হামলা এবং সৈন্য নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, পরিকল্পনাকারী ও তার সমর্থকদের শাস্তি দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সৌদি আরব এবং ভারত সন্ত্রাসবাদবিরোধী ও সাইবার হামলার বিষয়ে পারস্পারিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। এক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এর ফলে জঙ্গিরা যুবকদের বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারবে না। যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয় তাদের ওপর চাপ প্রয়োগে একমত হয় দুই দেশ। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, পর্যটন ও যোগাযোগ খাতে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য ছিল ২৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা টিএস তিরুমূর্তি বলেন, দুই নেতাই জাতিসংঘ কর্তৃক সন্ত্রাসী এবং তাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞার ওপর গুরুত্ব দেন। উভয় নেতা সংলাপের আগে শর্ত আরোপের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। প্রিন্স ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা করেন। ওই সিনিয়র কর্মকর্তা সাংবাদিকদেরর এক প্রশ্নের জবাবে জানান, সৌদি আরব ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার কোনো প্রস্তাব দেয়নি।
প্রিন্স বিন সালমান বলেছেন, জ্বালানি, কৃষি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সেবা খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে তার। তিনি জানান, ২০১৬ সাল থেকে সৌদি আরব ভারতে ৪৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাকিস্তানে বিনিয়োগের সঙ্গে ভারতের তুলনা করা যায় না। সৌদি ভারতকে ঋণলেখাপি থেকে উদ্ধারের জন্য বিনিয়োগ করছে না, বরং ভারতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এই বিনিয়োগ সহায়তা করবে।
প্রিন্স ভারতীয় জনগনকে ‘বন্ধু’ উল্লেখ করেন। সৌদি আরব ভারতের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভারতের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ১৭ ভাগ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক তৃতীয়াংশ মিটিয়ে থাকে সৌদি আরব।