প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না উপজেলা নির্বাচন

উপজেলা পরিষদের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না। তফসিল ঘোষিত বেশিরভাগ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই। ইতোমধ্যে ঘোষিত চারধাপের প্রথম দুইধাপে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী ৬টি উপজেলার কোনো পদেই ভোট হচ্ছে না। ইসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার অনেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

এই নির্বাচনে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল অংশ না নেওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, অনেকগুলো বড় বড় রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এটা অবশ্যই একটা হতাশাব্যঞ্জক খবর। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, উপজেলা নির্বাচন জৌলুস হারাতে বসেছে। নির্বাচন সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না, এই সত্যকে মেনে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে।

ইসির হিসাব মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ৬টি উপজেলার সবকটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম ধাপের জামালপুর জেলার মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় সব পদেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপের চারটি উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের সবকটিতেই একক প্রার্থী রয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে-পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া ও চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা।

পাঁচধাপে এবার ৪৯০ উপজেলায় ভোট হবে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলার তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল; যার ভোট নেওয়া হবে ১০ মার্চ। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ছিল এই ধাপের মনোনয়ন জমার শেষ দিন। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজনসহ ৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রথমধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৯ জনের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে ৫ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা পদে ৭ জন রয়েছেন।

প্রত্যাহারের পর এই ধাপে চেয়ারম্যান পদে যে ৭ উপজেলায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন- পঞ্চগড়ের বোদা, নীলফামারী সদর, জামালপুর সদর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী, জয়পুরহাট সদর। ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে যে ৫ উপজেলায় প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে- জামালপুরের মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর। আর ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে যে ৭ উপজেলায় প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে- লালমনিরহাট সদর, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর, নাটোর সদর, রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং জামালপুরের মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ। আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে গত সোমবার মনোনয়ন জমার শেষদিনে উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ২৪ জন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ১৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৫ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৬ জন রয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে ১৪টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী রয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলার সাতটি উপজেলার পাঁচটিতেই চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী রয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, মীরসরাই ও রাউজান। বাকি দুইটির উপজেলার হাটহাজারীতে দুইজন ও ফটিকছড়িতে তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া যেসব উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী রয়েছেন সেগুলো হচ্ছে- বগুড়ার আদমদীঘি, নওগাঁ সদর, পাবনা সদর, মৌলভীবাজার সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি।

এছাড়া যে পাঁচটি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী রয়েছেন সেগুলো হচ্ছে- পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর ও বোয়ালমারী, নোয়াখালীর হাতিয়া এবং চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা। আর যে ছয়টি উপজেলায় সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান একক প্রার্থী সেগুলো হচ্ছে- পাবনা সদর, সিলেটের কানাইঘাট, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া এবং চট্টগ্রামের রাউজান ও মীরসরাই উপজেলা। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ধাপের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে ইসি। এই ধাপে ১২৯ উপজেলায় আগামী ১৮ মার্চ ভোট হবে। এছাড়াও তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ ১২৭টি উপজেলায় এবং চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ১২২টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে।