ক্যান্সার ও বয়সজনিত রোগ নিরাময়ের গোপন রহস্য!

আশ্চার্য হলেও সত্য- সাদা হাঙ্গরের বৃহদাকার প্রজাতিটি মানুষের ক্যান্সার ও বয়সজনিত রোগ নিরাময়ের গোপন রহস্য ধারণ করে আছে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর বিবিসির।

গ্রেট হোয়াইট শার্ক বা সাদা হাঙ্গরের ডিএনএ’র প্রথম ধাপের গঠন প্রকাশ পেলে দেখা যায়— হাঙ্গরের জিনের ডিএনএ গঠনের স্থায়ী পরিবর্তন বা ‘মিউটেশন’র যে বৈশিষ্ট্য তা প্রাণীকে ক্যান্সার ও বয়সজনিত রোগ থেকে রক্ষা করে। আরো গবেষণার মাধ্যমে এ থেকে প্রাপ্ত ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে বয়সজনিত রোগ নিরাময়ের কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। বড় এই সাদা হাঙ্গর নিজে থেকেই তার নিজের ডিএনএ মেরামত করার ক্ষমতা রাখে। যেমনটি মানুষের নেই। এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ফ্লোরিডার নোভা সাউথ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী।

মানুষের কিছু ‘পরিবর্তনশীল জিন’ বয়সজনিত রোগ ও ক্যান্সারের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। হাঙ্গরের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তারা তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে হারিয়ে শীর্ষে অবস্থান করে আসছে। সেজন্য নিজেরাই তারা তাদের জিনকে মেরামত করেছে। গবেষণাটির সহ-নেতা ড. মাহমুদ শিভজি বলেন, জিনোম-এর অস্থিতিশীলতা বা পরিবর্তনশীলতা মানুষের বহু গুরুতর রোগের জন্যে দায়ী। আমরা এখন দেখতে পারছি- এসব বড় ও দীর্ঘজীবী হাঙ্গরের ক্ষেত্রে প্রকৃতি জিনোমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুচতুর কৌশল রয়েছে। এসব তথ্য থেকে ক্যান্সার এবং বয়সজনিত রোগ কিভাবে প্রতিরোধ করা যেতে পারে তা যেমন জানা যাবে, তেমনি ক্ষত নিরাময়ের কৌশলও পাওয়া যাবে- যা প্রাণী জগতে অনেকেই করে আসছে। প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ বছর ধরে সাগরে বিচরণ করছে এই সাদা হাঙ্গর।

বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন হাঙ্গরের ডিএনএতে সংরক্ষিত তথ্য বা কোডের অর্থ বের করতে। যার মাধ্যমে হাঙ্গর তার সমস্যার সমাধান কিভাবে করছে সেই রহস্য কাজে লাগানো যাবে। হাঙ্গর সাধারণত গুরুতর আহত অবস্থা থেকে নিজেদের দ্রুত নিরাময় করে তুলতে পারে। গবেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত তথ্য তাদের ক্ষত নিরাময় ও রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যার সমাধানও দেবে।  গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধেও হাঙ্গর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কেননা তারা সেইসব ছোট ছোট প্রাণী শিকার করে থাকে যারা অধিক পরিমাণে কার্বনডাই অক্সাইড উত্পাদন করে থাকে।