নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি খালের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের লাধুরচর এলাকার ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ১০-১২ জনের একটি সিন্ডিকেট করে ওই মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার নিরীহ মানুষের কৃষি জমির মাটি রাতের আঁধারে জোরপূর্বক কেটে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১২জনের একটি সিন্ডিকেট এক সপ্তাহ ধরে লাধুর চর এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা ছাগলবামনী থেকে লাধুরচর পর্যন্ত খালের মাটি ভেকু দিয়ে কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছে। প্রতিদিন ওই মাটি নেওয়ার জন্য ৮-১০টি ট্রাক খালের পাশে এসে দাঁড়ায়। মাটি লুটের সাথে জড়িত ৩-৪ জন ওই এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে নিয়মিত পাহারা দেয় বলে অভিযোগ করলেন এলাকার লোকজন। তারা জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদ করলেই তাদের হামলার শিকার হতে হয়।
এলাকাবাসী জানান, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির সাথে জড়িত। অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে দু’বার তাকে জেলে যেতে হয়েছে।
সরেজমিনে গতকাল বুধবার দুপুরে লাধুর চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছাগলবামনী থেকে লাধুরচর পর্যন্ত খালের মাটি ভেকু দিয়ে কেটে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। পাশে বসে দু’জন লাঠি হাতে বসে পাহারা দিচ্ছে। ছবি তুলতেই চেঁচিয়ে এগিয়ে এসে বাধা দেয় তারা। ইউপি সদস্য আনোয়ারের অনুমতি নিয়ে ছবি তুলতে হবে বলে তারা জানায়।
লাধুরচর এলাকার আমিনুল, সবুজ ও আতিকুর জানান, আনোয়ার হোসেন এলাকার কাউকে তোয়াক্কা করেন না। সে শুধু খালের মাটি নয়, কয়েকজন কৃষকের জমির মাটিও কেটে নিয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ জানান, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে খাল খননের কথা বলে খালের মাটি ট্রাকযোগে পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলার ফাউসা এলাকার একটি ইটভাটায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ছোট একটি খালের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছি এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই মাটি কাটাচ্ছি। তবে তিনি মাটি কাটার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের অনুমতির জন্য যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিএম রুহুল আমিন রিমন জানান, সরকারি খালের মাটি কেটে কেউ পার পাবে না। মাটি কাটার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার জানান, খালের মাটি কেটে নিতে দেওয়া হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হবে।