যেভাবে নির্মিত হয়েছিল সাভারের প্রথম শহীদ মিনার

ঢাকা মহানগরীর উপকণ্ঠ সাভার উপজেলায় নির্মিত হয়েছিল ঐ এলাকার প্রথম শহীদ মিনার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশের দালালরা এই শহীদ মিনারটি ভেঙে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তা পুনরায় নির্মাণ করা হয়। সাভারের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ সাভার অধর চন্দ্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবিশাল মাঠের দক্ষিন পূর্ব কোনে আজও শহীদ মিনারটি দাঁড়িয়ে আছে।

১৯৬৮ সালে ছাত্র গণ আন্দোলন ও পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূত্থানের প্রাক লগ্নে তত্কালীন সাভারের ছাত্র নেতা আশরাফ উদ্দিন খান ইমু, খ.ম হামিদ রঞ্জু, কাইয়ুম খান, রফিকুল ইসলাম মোল্লা, প্রয়াত ইউসুফ আহমেদ, আবু বক্কর সিদ্দিক (মিন্টু), পান্না লাল পোদ্দার, গৌর সাহা, মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। এ সময় শহীদ মিনার নির্মাণ ছিল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। আর এ নিষেধাাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ছাত্র নেতারা শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্বান্ত নেন এবং রাতের অন্ধকারে  চুপিসারে শহীদ মিনারের কাজ শুরু করেন। প্রথম শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছিল বিদ্যালয়ের স্বর্ণময়ী ছাত্রাবাসের সামনে। ১৯৬৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত জেগে হারিকেন জ্বালিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শুরু করেন ছাত্র নেতারা।

প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোক্তাদের অন্যতম খ.ম হামিদ রঞ্জু বলেন, আমাদের পরিকল্পিত শহীদ মিনারটি ছিল মূল বেদির উপর ৩টি লম্বা স্তম্ভ। তবে স্তম্ব ৩টির উচ্চতার তারতম্য ছিল। রাত শেষ হওয়ার  শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ওই রাতেই গাঁদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল মিনারটি। সাভার কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক দীপক কুমার রায় আর্ট পেপারে সুন্দর করে লিখেছিলেন ‘শহীদ দিবস অমর হোক’ এবং ‘অ আ ক খ’।  শহীদ মিনারটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে সবাই তা ২১ ফেব্রুয়ারী ভোরে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সকালে ছাত্রনেতারা সবাই খালি পায়ে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে’ ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি” গানে গানে শ্রদ্ধা জানায় প্রথম শহীদ মিনারে গিয়ে।

স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল কিছু কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোক শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলে।  পরবর্তীতে ৯মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণকারী ছাত্রনেতারা পুনরায় সাভার অধর চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিন পূর্ব কোনায় স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন।  শহীদ মিনারের নির্মান ব্যয় ও আনুসাঙ্গিক খরচ উদ্যোক্তারা স্থানীয়ভাবে অনুদান নিয়ে যোগাড় করেছিলেন বলে জানা গেছে।