সৈয়দপুরের এসব কৃষিশ্রমিক ব্রাজিল সমর্থক

নীলফামারীর সৈয়দপুরের এসব কৃষিশ্রমিক ব্রাজিল সমর্থক। সে দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠেঘাটে কাজ করেন। ভালোবাসার এক অন্যরকম নজির। যেন অকৃত্রিম ভালোবাসা। দলকে ভালোবেসে হৃদয়ে ধারণ করে ব্রাজিল দলের সমর্থক এসব কামলারা কাজ করে চলেছেন। ১৫ জন সদস্যের এই টিমে রয়েছেন একজন টিম লিডারও। তার নির্দেশ মেনে চলেন দলের সবাই। এরা প্রতিদিনই কাজ করে সংসার চালান আর সময় পেলে বিশেষ করে ব্রাজিলের ফুটবল খেলা টিভিতে দেখালে সেদিন কাজ বন্ধ রাখেন। এই দলের প্রতি একটি নির্দেশ রয়েছে দলের জার্সি না পরলে সে আর কামলার কাজ করতে পারবে না।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালিপুর ইউনিয়নের কোরাণীপাড়া। সেখানকার একদল কৃষিশ্রমিক ব্রাজিল দলের জার্সি পড়ে মাঠে-ময়দানে কৃষি কাজ করছেন আপনমনে। শ্রমিকের কাজ করে চলে তাদের জীবিকা। দলনেতা মোকছেদুল (৩৫) জানান, ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে টিভিতে খেলা দেখে আমরা সবাই ব্রাজিল দলের সমর্থক হয়ে যাই। তারপর থেকে জার্সি কিনে গায়ে চড়াই। কাজ করার সময় এই জার্সি না পরলে তাকে কাজে নেওয়া হয় না, এটা বলে দেওয়া আছে। ব্রাজিলের ফুটবল খেলোয়াররা মাঠে খেলেন আর আমরা খেতে-খামারে কামলার কাজ করি। জার্সি পুরোনো হলে আবার নতুন করে কেউ কেউ কিনে নেন।

দলনেতা আরো জানান, ঐ দলের প্রতি ভালোবাসায় তারা ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠী নামে একটি সংগঠনও তৈরি করেছেন। কাজের টাকা ভাগাভাগির পর অবশিষ্ট টাকা সমর্থক গোষ্ঠীতে জমা করেন। এভাবে তাদের নিজস্ব চাঁদার টাকায় চলছে তাদের সংগঠনটিও। এই জার্সি পরে কাজ করলে তাদের কাজে জোস বাড়ে এমনটি বললেন দলনেতা মোকছেদুল। ফুটবল খেলায় রেফারির বাঁশি দুটি দলকেই পরিচালিত করে থাকে। কিন্তু এই দলে বাঁশি নেই আছে দলনেতা। তার কথা সবাই মেনে চলেন। কাজের জন্য গৃহস্থরা তার হাতে পারিশ্রমিক ও অগ্রিম টাকা-পয়সা দিয়ে থাকেন। পরে সবাই তা বিলিবণ্টন করে নেন। কোনোদিন কার কাজ হবে সেটাও ঠিক করেন তিনি।

এই জার্সি পরেই দলের সবাই ধান, পাট, গম কাটা- মাড়াই, খেতের নিড়ানির কাজসহ সব কৃষি কাজ করে থাকেন। কাজ করার সময় কেউ কেউ মন্তব্য করলেও তারা কেউ গায়ে মাখেন না। তবে মাঝেমধ্যে অনেকে তাদের ভালো বলেন এবং কাজেরও প্রশংসা করেন তখন তাদের ভালো লাগে। তাদের সাফ কথা কাজ করে খাই, চুরি তো করি না। এভাবে তারা সবাই মিলেমিশে কাজ করছেন বছরের পর বছর।