দেশি-বিদেশি সর্বশেষ চারটি জরিপ রিপোর্টের ভিত্তিতে ২৩০ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। জরিপ রিপোর্টগুলো গত চার দিন ধরে বিশ্লেষণ করে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড। এখন জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে আসন ভাগাভাগি করা হবে। এবার জোট সঙ্গীদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদেরটা অলমোস্ট ক্লোজড। তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। তবে ফাইনাল ফিনিংশটা বাকি আছে। আমাদের এলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনা করে ফাইনাল করা হবে। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে জোটগতভাবে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আমরা আলাপ-আলোচনা শুরু করব। তারা তালিকা দিচ্ছেন। আগামীকালের (সোমবার) মধ্যে সেটা হয়ে যাবে। তারপরে আনুষ্ঠানিকভাবে বসতে পারি। তখন পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবো, আরো ৪-৫ দিন সময় লাগবে। একসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আমরা নমিনেশনটা দিয়েছি জরিপ রিপোর্টের ভিত্তিতে। ছয় মাস বা তিন মাস আগের জরিপ এখন ঠিক নেই। আগের জরিপে দেখা গিয়েছিল, অনেক সংসদ সদস্যের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা কমেছিল। কিন্তু সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে ওই এমপিরা তাদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেয়েছেন। তাই খুব বেশি এমপি বাদ পড়ছেন না। নতুন মুখ আসছে, পুরোনো মুখও থাকবেন। নবীন-প্রবীণ মিলে এবার হচ্ছে।’
জোটের শরিকদের কত আসন দিবেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) যেটা বলেছেন তা হলো ৬৫ থেকে ৭০টি আসন শরিকরা পাবেন। তবে আলোচনা করে যদি মনে হয় তাদের উইনেবল প্রার্থী বেশি আছে তা হলে সেটা বাড়ানো যেতে পারে। আমরাও আমাদের যারা ইলেক্টবেল না তাদের বাদ দিতে দ্বিধা করবো না।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৪ দলের মধ্যে যারা এখন ইলেকটেড আছেন; তাদের বাদ দেওয়ার চিন্তা আমাদের নেই। জোটের ইলেকটেডদের রাখতে হবে, যদি কারও পজিশন খুব খারাপ না হয়। তবে সার্ভে রিপোর্টে কারও পজিশন খুব খারাপ থাকলে সেটা ১৪ দল হোক, আর জাতীয় পার্টির (জাপা) হোক, তাকে তো বাদ দিতে হবে। এ ছাড়া মনোনয়নে নানা সমীকরণের ক্ষেত্রে কেউ বাদ পড়তে পারেন। যেমন মাশরাফি বিন মর্তুজাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সেখানকার ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান এমপি বাদ পড়তে পারেন।’ তিনি বলেন, ১৪ দল আছে, জাতীয় পার্টি (জাপা) আছে, যুক্তফ্রন্ট আছে, কিছু ইসলামী দল আছে- তারাও আমাদের জোটের পার্টনার।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২৮ নভেম্বর। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।