সাড়ে চারশো কোটি বছরের ইতিহাসে পৃথিবী কখনো একইরকম থাকেনি। থাকা সম্ভব ছিল না। বদল অবশ্যম্ভাবী। বদলের ধারাপাত মেনেই কালের বিবর্তনে পরিবর্তন ঘটেছে 'ইত্তেফাক' পত্রিকার বিন্যাসে। ১৯৫৩ সালে যার যাত্রা দৈনিক পত্রিকা হিসেবে, তার প্রায় সাত দশক কেটেছে। ভালো কিংবা খারাপ, আলো অথবা অন্ধকার, ইত্তেফাক সূর্য হয়ে থেকেছে গণমানুষের কাছে।
সত্য ও সাহসিকতার সম্মিলনে তৈরি হওয়া আদর্শিক ভিত্তির উপর ভর দিয়ে প্রথম দিন থেকে পত্রিকাটি পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় কলম চালিয়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সময়ে এসে, একবিংশ শতাব্দীতে কলম পরিণত হয়েছে কি-বোর্ডে, কিন্তু মিডিয়ার আকাশে ইত্তেফাক নামক সূর্যের আঁচ কমেনি এতটুকু।
একটা সময় সকাল হলে গৃহকর্তা অপেক্ষা করতো ছাপার অক্ষরের গরম গরম কাগজটার জন্য। একের পর এক পাতা উল্টে যেতো। প্রথম পাতা হতে শেষ পাতা, মাঝে দেশ বিদেশের খবর, বাণিজ্য, কলাম, বিনোদন, খেলাধুলা; একেক শ্রেণির পছন্দের জায়গা একেক রকম। এখনও চাহিদার জায়গা একই আছে, আকাঙ্খার জায়গা বদলেছে। মানুষ এখন খবর চায় প্রতি মূহুর্তে। সংবাদপত্রের আগেই পৌঁছায় যে খবর, তা নতুন করে পরদিন পড়বে কেন? এই প্রশ্নের জবাব মাথায় রেখে ইত্তেফাক পাঠকদের জন্য জানা খবর ভিন্ন আঙ্গিকে পেশ করছে অনলাইনে। পাঠক তাতে মগ্ন হতে বাধ্য।
প্রিন্ট থেকে অনলাইনের বিপ্লবী বাঁক বদলে বাংলার মানুষের কাছে ইত্তেফাক বিশ্বস্ত মাধ্যম। সংবাদ প্রচারে সবার আগে প্রয়োজন প্রেজেন্টেশন। এখানে এগিয়ে ইত্তেফাক। ওয়েবসাইটে ঢুকলে পাঠক তার প্রয়োজনীয় সবকিছু যখন হাতের নাগালে পাচ্ছে , তখন তাকে এড়াবার সাধ্য তার থাকে না। বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া আকাশসম। সেই আকাশে ইত্তেফাক নামক সূর্যটি চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে পাঠকের। সূর্য চিরন্তন। সৃষ্টির শুরুতে বন্য মানুষদের যেভাবে পথ দেখিয়েছে, আজকের সভ্যদেরও একইভাবে দেখাচ্ছে। সামনের আরও উন্নত সভ্যতায়ও আপন আলোয় উদ্ভাসিত থাকবে ইত্তেফাক। প্রিন্ট থেকে অনলাইন হয়ে হয়তো আরও নতুন রঙে।
—জহিরুল কাইউম ফিরোজ
ইত্তেফাকের বস্তুনিষ্ঠ, প্রাঞ্জল এবং সাবলীল সংবাদ পরিবেশনা বিগত ৬৮ বছর ধরেই কোটি বাঙালির সাথে অটুট বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। রাজনৈতিক বিষয়াবলী, সামাজিক ঘটনাবলী কিংবা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনায় সদা প্রগতিশীল দর্পণ হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে ইত্তেফাক। বস্তুনিষ্ঠ এবং সাবলীল সংবাদ প্রকাশে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পত্রিকা ইত্তেফাক।
সময়ের তাগিদে দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন এবং ডিজিটাল মাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ করছে। তাদের ই-পেপার সংস্করণটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই যে কেউ পাঠ করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইত্তেফাক সমান তালে সত্য ও প্রাসঙ্গিক সংবাদ প্রকাশ করছে। যুগ যুগ ধরে মানুষের আস্থা অর্জন করা ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন ও ডিজিটাল এসকল সংস্করণে রয়েছে হরেক রকম ফিচার, রঙিন ছবি ও ভিডিও যা পাঠকের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ধরা দিয়েছে।
অনলাইন সংস্করণগুলোতে রয়েছে বৈচিত্র্যতা এবং যুগোপযোগী কন্টেন্টের সমাহার। পাঠকদের আকৃষ্ট করতে এগুলো খুবই কার্যকর। কালিক ধারাবাহিকতায় পঞ্চযুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে প্রিয় জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক ৬৯ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। লক্ষ তরুণের মনে উন্মাদনা জাগিয়ে আরো পাঁচ সহস্র যুগ বেঁচে থাকুক ইত্তেফাক এই কামনা করি।
—আল সাউদ সৌহার্দ্য
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তবাক চর্চার ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে দৈনিক ইত্তেফাক। ১৯৫৩ সালে যাত্রা শুরু করে বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলনের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করা পত্রিকাটি পাড়ি দিয়েছে বহু পথ। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ। সেই সাথে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন ঘটেছে পত্রিকাটির প্রকাশের ধরন।
১৯৫৩ সালে যখন দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশিত হওয়া শুরু করে তখন লেখাগুলো সাধু ভাষায় লেখা হতো। সময়ে সাথে বদলে গেছে পাঠকের রুচি ও চাহিদা। একবিংশ শতাব্দীর তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষে দৈনিক ইত্তেফাককে বর্তমানে অনলাইন ও ইপেপার ভার্শনেও পড়তে পারছেন পাঠকেরা।বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে লক্ষ্যে দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন ভার্শনে নিয়মিত পাওয়া যায় জাতীয়, আন্তর্জাতিক , খেলা, বিনোদন, লাইফস্টাইল, টেক, ভিন্ন চোখ ও মতামত কলামে চমকপ্রদ সব সংবাদ। নির্ভরযোগ্য সংবাদের জন্য দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন মাধ্যম আমার পছন্দের তালিকা সবসময়ই শীর্ষে। বিশেষ করে সম্পাদকীয়, ক্যাম্পাস, লাইফস্টাইল কলামের লেখাগুলো পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ থাকে সর্বদা
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের প্রাচীন গণমাধ্যম হিসেবে দৈনিক ইত্তেফাকের কাছে আমার প্রত্যাশা একটু বেশিই থাকবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ইত্তেফাকের অনলাইন ভার্শন এগিয়ে চলেছে দুরন্ত গতিতে। এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন নতুনত্ব ও পাঠক চাহিদা অনুযায়ী কন্টেন্ট নিয়ে আসা। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অনলাইন মাধ্যমে ভিডিও নিউজ ও ফিচার কন্টেন্ট সংখ্যা বৃদ্ধি করা উচিত বলে আমি মনে করি। যুগের সাথে এগিয়ে যাক প্রিয় পত্রিকা ইত্তেফাক। এ শুভকামনা থাকবে সবসময়।
—মো. ফাহাদ হোসেন
১৯৫৩ সালের আজকের এই দিনে যাত্রা শুরু করা 'ইত্তেফাক' বাঙালি জাতিসত্তারই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিগণিত। ঘাত-প্রতিঘাতময় ৬৮ বছরের এই স্বর্নালী যাত্রায় বাংলা ও বাঙালির প্রতিটি ঘটনার অতন্দ্র সাক্ষী এই পত্রিকা।
কর্তৃপক্ষ, সর্বজনবিদিত এই পত্রিকার জনসম্পৃক্ততার বিষয়টি আমলে নিয়ে শুধুমাত্র মুদ্রণেই সীমাবদ্ধ না রেখে একে ডিজিটাল মাধ্যমেও প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে যা খুবই যথার্থ হয়েছে। পাঠকের অভিপ্রায়, তারুণ্যের অংশগ্রহণ, অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তৃতির প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রেখে ও নেটিজেনদের ব্যাপক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদকে সহজলভ্য করার এই প্রয়াস অবশ্যই সাধুবাদ জানানোর মতো।
ইত্তেফাকের ই-পেপার মুদ্রিত কপিরই অনলাইন রূপান্তরমাত্র। যে কেউ যেকোনো প্রান্তে বসে কোনো রকম অর্থ-ব্যয় ছাড়াই সারাদিনের সব খবর পড়তে পারবেন। বেশিরভাগ জাতীয় দৈনিকের অনলাইন কপি যেখানে নির্ধারিত অর্থমূল্য দিয়ে পাঠ করতে হয়, সেখানে একেবারে প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক হওয়া সত্ত্বেও বিনামূল্যে অনলাইনে পত্রিকা পড়ার এই সুযোগ প্রদান অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
তাছাড়া ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে আলাদা শিরোনামে ভিন্ন ধাঁচের সংবাদের সমারোহ রয়েছে। এখানে রঙিন ছবি ও ভিডিও সংবলিত সংবাদগুলো আরও আকর্ষণীয়ভাবে প্রকাশিত হয়, যা পাঠককে আরও আকৃষ্ট করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন-ফেসবুক, যেখানে অসত্য ও অযাচিত খবরের ছড়াছড়ি সেখানেও ইত্তেফাকের ভেরিফাইড পেইজ থেকে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ ও বাছাইকৃত খবরগুলো নেটিজেনদের মধ একপ্রকার স্বস্তির আবহ সৃষ্টি করে।
সর্বজনবিদিত এই জাতীয় দৈনিকের ৬৯ বছরে পদার্পণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে নিরন্তর শুভকামনা জানাই। শাশ্বত হোক ইত্তেফাকের এই জয়যাত্রা।
—মো. আবু রাহাত
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে ইত্তেফাক সব শ্রেণীর পাঠকের মন জয় করেছে। এ পত্রিকার প্রতিবেদনে দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখায় সবার প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দৈনিক ইত্তেফাক ৬৯ বছর পেরিয়েও জনপ্রিয়তার শীর্ষে কয়েছে যার মূল কারণ সংবাদ পরিবেশনে পত্রিকাটির আপসহীন অবস্থান ধরে রাখা।
সাম্প্রতিক সময়ে ইত্তেফাক অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমেও বেশ সাবলীল। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ইত্তেফাক বিনামূল্যে ই-পেপার প্রকাশ করেছে। তাছাড়া রঙিন ছবি ও ভিডিও সংবলিত সংবাদগুলো ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে ঢুক যে কেউই পড়ে নিতে পারছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারকৃত ইত্তেফাকের সংবাদগুলো সর্বস্তরের মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
মোটকথা, ইত্তেফাক এখন আর শুধু ছাপার কাগজে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক নয়, এটি এখন অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় সংবাদপত্রে পরিণত হয়েছে। আমি নিজেও ইত্তেফাকের 'প্রজন্ম' পাতার একজন নিবিষ্ট পাঠক। এখানে প্রকাশিত তারুণ্যের উদ্যোগ, সম্ভাবনা আর সফলতার গল্পগুলো আমি আমার মুঠোফোনেই পড়ি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর ব্যাপারে জানতে ইত্তেফাকের ই-পেপারেও প্রায়শঃই চোখ রাখার চেষ্টা করি।
আজ ৬৯-তম বছরে ইত্তেফাকের জন্য রইলো অনিঃশেষ শুভকামনা। অবারিত হোক ইত্তেফাকের নন্দিত পথচলা।
—শহীদুল হক আফগানি
৫২'র ভাষা আন্দোলন, বাঙালি জাতীয়তাবোধ এর উদ্ভব। ৭১' থেকে এলো স্বাধীনতা। মুক্তি! কিন্তু মুক্তচিন্তা, মুক্তবোধ এর বিকাশ এর স্ফুরণ হয়েছিল ঠিক আজকের এই দিনে ১৯৫৩ সালে ইত্তেফাক এর হাত ধরে। দিন পেরিয়েছে, কত কিছু বদলে গেছে। আমরা কলম ছেড়ে কি-বোর্ড ধরেছি। কাগজ ফেলে স্মার্টফোন তুলে নিয়েছি। ইত্তেফাক ও সময়ের সঙ্গে নিজেকে মেলে ধরেছে অনন্য রূপে। কত যুদ্ধ, কত শান্তি, কত নিপীড়নে ইত্তেফাক এগিয়ে গিয়েছে দুর্বার গতিতে। হোক প্রতিবাদ, কিংবা সুস্থ সংস্কৃতি ইত্তেফাক এর কলম কখনো থেমে থাকেনি বরং হয়েছে আরো তীব্র, অপ্রতিরোধ্য। প্রিন্ট কিংবা ডিজিটাল ফরম্যাট, ইত্তেফাক সমস্ত পরিসরেই বিরাট এক বটবৃক্ষ। সেটা হোক দৈনিক খবর, ফিচার, কলাম কিংবা সুস্থ বিনোদন। ইত্তেফাক বাঙালির মর্মে গাঁথা।
একটি জাতীয় দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ আর ৬৮ বছর ধরে বাঙালির মুক্তচিন্তা চর্চার মাধ্যম হয়ে থাকা, কোনোটিই মুখের কথা নয়। আজ ইত্তেফাক এর ৬৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ভালো করে বললে আজ ইত্তেফাক এর জন্মদিন। কিন্তু এতো পথ পাড়ি দিয়েও ইত্তেফাক যেন আরো যুবক, আরো নতুন। যেই পত্রিকায় বাংলা, বাঙালি, মূল্যবোধ, চেতনা মিশে আছে তার জন্য হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধাবোধ এবং শুভকামনা। ৬৯ বছরের চিরতরুণ ইত্তেফাক কে শুভ জন্মদিন।
—মো. তৌহিদ আহমেদ খান