এমন জয়েও তৃপ্ত নয় নিউজিল্যান্ড

ভারতের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে ঘরের মাটিতে সিরিজ হারার পর বিপদেই পড়ে গিয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে প্রবল পরাক্রমে ফিরে বাংলাদেশকে গুড়িয়ে দিয়ে হোয়াইট ওয়াশ করেছে তারা। টানা তিন ম্যাচে বাংলাদেশকে দাঁড়ানোর সুযোগই দেয়নি স্বাগতিক দলটি। এই পারফরম্যান্স থেকে ইতিবাচক ব্যাপারগুলো গ্রহণ করছেন নিউজিল্যান্ডের কোচ গ্যারে স্টিড। কিন্তু তিনি মেনে নিচ্ছেন যে, বাংলাদেশের বিপক্ষে এই জয়ে বিশ্বকাপের আগে উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি।

বাংলাদেশকে প্রথম দুই ম্যাচে ৮ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এরপর শেষ ম্যাচে ৮৮ রানে জয় পেয়েছে তারা। এই সিরিজে মার্টিন গাপটিল দুটো সেঞ্চুরি করেছেন। নতুন বলের বোলাররা তিন ম্যাচেই বাংলাদেশের টপ অর্ডারে ধস নামিয়েছেন। বিশ্বকাপের সেরা একাদশে যারা খেলতে পারেন, তারা প্রায় সবাই কম বেশী রান পেয়েছেন।

কিন্তু এই সব পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের মতো একটা বড় টুর্নামেন্টের জন্য আদৌ কোনো অর্থ বহন করে কি না, সেটা নিশ্চিত নন কোচ স্টিড। তিনি বলছিলেন তার দল যথেষ্ট উন্নতি করেছে কি না, সেটা এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে না, ‘ভারত অবশ্যই আমাদের এমন কিছু বিষয় উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যেগুলোতে আমরা উন্নতি করতে চাচ্ছি। কিন্তু নিষ্ঠুর সত্যি হলো ওই মানের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আবার খেলার আগে আমরা নিজেরাই বলতে পারি না যে, আসলেই আমরা এই সময়ে কিছু শিখেছি কি না। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা না দেখিয়েও বলা যায় যে, তারা এখনকার ভারতীয় দলের মানের দল নয়।’

তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটাও তাদের কিছু বিষয় গুছিয়ে নিতে সহায়তা করেছে বলেই কোচ দাবি করছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা এখানে যেভাবে ইনিংস তৈরি করেছি, সেটা সত্যিই ইতিবাচক ব্যাপার। অনেক সিরিজ এরকম আসে, যেখানে নিজেরা আসলে কীরকম খেলতে চাই, কী স্টাইলে খেলতে চাই, সেটা ঠিক করে নিতে পারি। এটা কোনো রকেট সায়েন্স নয়। সব দলই চায় হাতে উইকেট রেখে রান তুলতে; যাতে শেষ দিকে বেশি রান তোলা যায়। সেই সাথে সব দলই শুরুতে উইকেট নিয়ে নিতে চায়। এগুলো আমরা করতে পেরেছি।’

তবে একটা দুশ্চিন্তার জায়গা এই বাংলাদেশ সিরিজেও থেকে গেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিটি ম্যাচে আগে আগে কয়েকটা উইকেট পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ তিন ম্যাচে যথাক্রমে ৬ উইকেটে ৯৪, ৫ উইকেটে ৯৩ ও ৫ উইকেটে ৬১ রান তুলেছিলো। সেখান থেকে তারা ২৩২, ২২৬ ও ২৪২ রান করেছে। এই রান তাদের জয়ের জন্য যথেষ্ঠ না হলেও প্রমাণ করেছে যে, নিউজিল্যান্ড মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট নিতে পারছে না। কোচ স্টিড বলেছেন, সেরা দলগুলোর বিপক্ষে ভালো করতে চাইলে এই জায়গাটায় আরও ভালো করতে হবে।