২০০০ সালের নভেম্বরে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাটটিতে ২১ বছর অতিবাহিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এই ২১ বছরে এখনো তলানির দিকেই থাকে লাল-সবুজ বাহিনীদের পারফরম্যান্স। এখনো প্রতিটি সিরিজেই ভুল থেকে শেখার কথা বলেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু আদৌ তারা লাল বলের ক্রিকেট কতটুকু শিখতে পেরেছে কিংবা শেখার চেষ্টা আছে কি না, তা বড় প্রশ্ন!
ক্যালেন্ডার থেকে ২০২১ সালও শেষ হতে চলেছে। তাইতো চলছে বাৎসরিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ণ। আজ দ্বিতীয় পর্বে থাকছে ২০২১ সালে বাংলাদেশ দলের টেস্ট ফরম্যাটে পারফরম্যান্স। তো কেমন ছিল মুমিনুল বাহিনীর সাদা পোশাকে পথচলা, চলুন এই পর্বে সেই আলোচনাই করি।
২০২১ সালে সর্বমোট ৭টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ছয়টি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত এবং অন্যটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। জয় এসেছে কেবল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। বাকি ছয়টির মধ্যে একটি ড্র এবং ৫টিতে পরাজয়। ফলে এই পারফরম্যান্সকে হতাশাজনকই বলা যায়।
বছরের শুরুতেই ঘরের মাঠে দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। যদিও সিরিজ শুরুর আগে টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক হতাশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ক্যারিবিয়ানরা কেন টেস্টের মতো অভিজাত ফরম্যাটে দ্বিতীয় সারির দল পাঠাচ্ছে। অথচ সেই দলটির কাছেই কি না পাত্তা পেলো না মুমিনুল বাহিনী। পরাজয়ের ব্যবধান ছিল, প্রথম টেস্টে ৩ উইকেট ও দ্বিতীয় টেস্টে ১৭ রান।
এরপর এপ্রিল-মে মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে যায় টাইগাররা। সেখানে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। এর মধ্যে প্রথম টেস্টে উভয় দলই শেয়ানে শেয়ানে লড়াই করে। ফলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়। বলে রাখা ভালো, এটাই ছিল আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বশেষ মৌসুমে বাংলাদেশের একমাত্র সফলতা। এরপর দ্বিতীয় টেস্টে ২০৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় শ্রীলঙ্কা।
জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফর করে মুমিনুল বাহিনী। সেখানে স্বাগতিকদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ২২০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। তবে এটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
আর বছরের শেষে নভেম্বর-ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে আতিথ্য দেয় টাইগাররা। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জাবরণ করেছে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচেই পাক বাহিনীর কাছে বেশ অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে লাল-সবুজ পতাকাধারীরা। এর মধ্যে প্রথম টেস্টে পরাজয়ের ব্যবধান ৮ উইকেট এবং দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৮ রান। দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের করা ৩০০ রানও দুই ইনিংস মিলিয়ে করতে পারেনি বাংলাদেশি ব্যাটাররা।