অনন্যা সম্মাননা নারী জীবনকে পূর্ণতা দেয়

দেশে নারী নির্মাতার সংখ্যা হাতেগোনা। সেই জায়গায় নিয়মিত নাটক, ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্র দশকদের উপহার দিচ্ছেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। সম্প্রতি নাট্য নির্মাতা হিসেবে অর্জন করলেন ‘অনন্যা শীর্ষ দশ-২০২০’ সম্মাননা। নিজের ব্যস্ততা, ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ও সম্মাননা প্রসঙ্গে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল।

‘অনন্যা শীর্ষ দশ-২০২০’ সম্মাননা পেলেন। এমন সম্মান পাওয়ার অনুভূতি কীভাবে ব্যক্ত করবেন?

‘অনন্যা শীর্ষ দশ’ এমন একটি সম্মাননা, যা বলা চেয়ে বেশি কিছু। অন্য ৯ জন নারীর সঙ্গে আমি সম্মাননা পেলেও তাদের যোগ্যতার কাছে আমি তেমন কিছুই না। আর পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন যেভাবে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ দায়িত্বে খুঁজে খুঁজে যোগ্যদের বের করে এই সম্মাননা প্রদান করেন, সেটা অতুলনীয়। একজন নারী নির্মাতা হিসেবে এই সম্মাননা পেয়ে আমি গর্বিত। বলতে পারেন, অনন্যা সম্মাননা নারী জীবনকে পূর্ণতা দেয়। আজকের এই অর্জন এবং অবস্থানের জন্য আমি মুজিবুর রহমান, মাহফুজ আহমেদ, তমালিকা কর্মকার, ইমদাদুল হক মিলন, আমার পরিবার ও দর্শকদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

এর বাইরে কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

‘কাগজের ঘর’, ‘ময়না’ ও ‘অন্তরালে’ ওয়েব সিরিজগুলোর কাজ নিয়ে ব্যস্ততা চলছে। কাগজের ঘরের কিছুটা শুটিং বাকি আছে এবং অন্য দুটি সিরিজের পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ করছি।

দেশে নারী নির্মাতার সংখ্যা কম হওয়ার কারণ হিসেবে কী বলবেন?

নারী নির্মাতা কম হওয়া পেছেনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। অনেক নারীর নির্মাণে ইচ্ছে আছে এবং শুরুও করে। কিন্তু পরিবার থেকে সেই সাপোর্ট পায় না। তাছাড়া ধৈর্য এবং নির্মাণ দক্ষতা হয়তো অনেকের কম আছে। তারা যদি মনে করে তার সহকারি বা ক্যামেরাম্যান কাজটি করে দেবে তাহলে তো টিকে থাকা সম্ভব না।

নাটকে অতিরিক্ত ভাঁড়ামো করতে গিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা সরে যাচ্ছি কি-না?

ভালো নাটক হচ্ছে না, তা কিন্তু না। তবে সংখ্যায় সেটা কম হচ্ছে। তবে অনেকে ভাবে ভাঁড়ামি মানেই দর্শকপ্রিয়তা। ইউটিউব ভিউ মানেই সেটা ভালো নাটক।—এমন ধারণার কারণে দায়বদ্ধতার জায়গায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এছাড়া নাটকের মানও কমেছে, এটা বলার অবকাশ রাখে না।

গুঞ্জন আছে, শিল্পীরা চালকের আসনে বসছেন! বিষয়টি নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

আমি এখনো এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হইনি। তবে শুনেছি শিল্পীরা সারাদিন সেটে বসে স্ক্রিপ ঠিক করছেন, নির্মাতা বসে থাকছেন। শিল্পীরা সন্ধ্যায় নিজের মতো করে শট দিচ্ছেন। এই বিষয়টি শুনে অবাক হই। এটা হলে সত্যিই ভয়ঙ্কর।

একই নাটকে একাধিক আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারকে কীভাবে দেখছেন?

একটি নাটকে একইসঙ্গে একাধিক আঞ্চলিক ভাষা শুনে মানুষ বিভ্রান্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক। এটার দায় নির্মাতাদের। এখনই বিষয়টিতে নজর দিতে হবে।

ইদানিং গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের চর্চা চলছে। এটাকে চলচ্চিত্রের ধারাবদল বলা যায় কি-না?

এক সময় কিন্তু মানুষ পারিবারিক গল্পই বেশি দেখতো। আমার মনে হয়, সেই জায়গায় আমরা ফিরে যাচ্ছি। চলচ্চিত্রে ভালো গল্পের জোয়ার এবং সুদিন ফিরে আসার সময় হয়েছে।

চলচ্চিত্র হলে ফিরলেও দর্শক ফেরেনি। এর কারণ হিসেবে কী বলবেন?

সবে তো চলচ্চিত্র হলে ফিরলো। একটু সময় দিলে দর্শকরাও হলে আসবে। এরইমধ্যে আমার বিশ্ব সুন্দরী, মৃধা বনাম মৃধা চলচ্চিত্রগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। আমরা যদি ভালো গল্পে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্ক্রিন প্লে করতে পারি তাহলে দর্শকরা হলে আসবেই।

ওটিটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশায় জায়গা কোথায়?

ওটিটি আসায় আমার মতো যে নির্মাতারা আছেন, যারা কাজ জানেন এবং কাজ করতে চান তাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এছাড়া ওটিটিতে গল্পের প্রয়োজনে যাকে দরকার তাকে নিয়ে কাজ করার সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে।