দেশে ফেরানো হবে না আইএসে যোগ দেওয়া মার্কিন তরুণীকে

বিবিসি ও রয়টার্স

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রচারক হতে দেশ ছেড়ে যাওয়া নারীকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘হুডা মুথানা যেন দেশে ফেরার অনুমতি না পায়’ তা দেখতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

আলাবামায় বেড়ে ওঠা হুডা চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছিলেন। মার্কিন এ তরুণী সেই সময় পরিবারের সদস্যদের তুরস্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ২৪ বছর বয়সী এ নারী সম্প্র্রতি ১৮ মাস বয়সী এক সন্তানসহ সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদেরকে উত্তর সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও এর আগে জানিয়েছিলেন, আইএসে যোগ দেওয়া এ নারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এবং তাকে ফেরত নেওয়া হবে না বলে। তিনি বলেছিলেন, ‘হুডা মুথানার (দাবির) কোনো আইনি ভিত্তি নেই, তার কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই, পাসপোর্টের অধিকার নেই, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য বৈধ ভিসাও নেই। তবে হুডার পরিবার ও তার আইনজীবী এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। হুডা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করেছেন তারা।

মার্কিন এ তরুণীর সঙ্গে ২০১৫ সালে লন্ডন ছেড়ে আইএসে যোগ দিতে যাওয়া শামীমা বেগমের কাহিনির মিল রয়েছে। শামীমা এখন ফিরতে চাইলেও যুক্তরাজ্য সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো। যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া এ নারীকে নিয়ে শোরগোলের মধ্যেই ট্রাম্প কয়েকদিন আগে ইউরোপের দেশগুলোকে ধরা পড়া আইএস যোদ্ধাদের ফিরিয়ে নিয়ে বিচার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইউরোপ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে না চাইলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কুর্দি বাহিনী ওই আইএস সদস্যদের ছেড়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।

হুডার ব্যাপারে অবশ্য তার অবস্থান একেবারেই উল্টো, বলছেন পর্যবেক্ষকরা। মার্কিন এ নারীর আইনজীবী হাসান শিবলীও বলছেন, ট্রাম্পের অবস্থান ‘অযৌক্তিক’। শিবলী বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) ইউরোপীয় দেশগুলোকে তার নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বলছেন আর এখন মার্কিন নাগরিকদের নিয়ে নাটক করার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প প্রশাসন অন্যায়ভাবে তার নাগরিকদের নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’