সিরাজগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইটভাটা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আবাদি জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে অধিকাংশ ইটভাটা। অর্ধশত ইটভাটার কালো ধোয়ার কারণে এই উপজেলার আকাশ বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছে। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে একদিকে আবাদি জমি এবং অপর দিকে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।

জানা গেছে , উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক ইট ভাটা। এই ভাটাগুলি আবার অনেকরই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে একদিকে আবাদি জমি এবং  অপর দিকে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ইটভাটারই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই। ইটভাটা মালিকরা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এই অবৈধ ভাটা গুলো চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইট তৈরির মূল উপকরণ মাটি সংগ্রহে আবাদি জমির টপ সয়েল কাটার মহা উৎসব শুরু হয়েছে। ভাটার পাশেই আবাদি জমির টপ সয়েল কেটে যেন পাহাড় গড়ে তুলেছে ভাটা মালিকগন। তাছাড়াও ইটভাটায় মাটি বহনকারী নম্বর বিহীন ট্রাক ব্যবহার করায় গ্রামীণ রাস্তাগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

ভাটা গড়ে ওঠায় পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলাধীন নিমগাছী এলাকার আব্দুস সাত্তার ও জিল্লুর রহমান জানান , ট্রাকের উড়ন্ত ধুলায় পথচারীরা নানা মুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ এই ধুলার কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও কয়লার মূল্য বেশি হওয়ায় অনেক ভাটায় খড়ি পড়ানো হচ্ছে। এতে উজাড় হয়ে যাচ্ছে বৃক্ষ ও বনাঞ্চল। সেই সং জ্বালানীর মূল্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাস বিহীন এই এলাকার মানুষের খড়ির মূল্য দিন দিন হাতের নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে।  পরিবেশ দূষণের কারণে ফলন্তগাছ গুলো ক্রমেই ফলশূণ্য হয়ে পড়ছে। 

ছাড়পত্র বিহীন অবৈধ ইটভাটার সম্পর্কে রায়গঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক ও হাসান ব্রিকস এর মালিক হাজী ছানোয়ার হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসা তো অবৈধ না । তবে অনেকেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পায় নাই । 

এব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৃপ্তি কণা মন্ডলের কাছে ছাড়পত্র বিহীন অবৈধ ইটভাটার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই উপজেলায় প্রায় ৫৫ টা ইটভাটা আছে। এদের মধ্যে  কত টি ইটভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র আছে তা আমার সঠিক জানা নেই ।  অতিসত্বর ছাড়পত্র বিহীন ইটভাটার মালিকের  বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।