পশ্চিমাঞ্চলে চাষিরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

পশ্চিমের জেলাগুলোতে চাষিরা বোরো চাষ কমিয়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে। তারা বলছে ধানের দরপতনে তাদের ধান চাষ করে লাভ থাকছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪৬ হাজার ১২১ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ১৭ হাজার ৪২০ হেক্টরে, মেহেরপুর জেলায় ১৫ হাজার ৮৩৫ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জেলায় ৮ হাজার ৪৭৫ হেক্টরে, যশোর জেলায় ৬’শ ৩৮ হেক্টরে ও মাগুরা জেলায় এক’শ ৩৫ হেক্টরে ভুট্টা চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল  ৭৬ হাজার ৮১২ হেক্টরে। এবার চাষ হয়েছে ৮৮ হাজার ৬২৪ হেক্টরে। গত বছরের চেয়ে এবার ১১ হাজার ৮১২ হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। সুপার সাইন, ২৭৬০, ২৭৯৬, ৭৭২০, ৯৮৭, ৯৮১, ডন, পালোয়ান, এলিট, কোহিনুর ও কাবেরী জাতের ভুট্টা চাষ হচ্ছে। সব জাত হাইব্রিড। ফলনও ভালো হয়। হেক্টরপ্রতি ৮ থেকে ১০ টন ফলন হয়। চাষিরা জানায়, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিঘাতে ৩৫ থেকে ৪০ মণ ভুট্টা হয়। গত বছর প্রতি মণ ভুট্টা ৭/৮’শ দরে বিক্রি হয়েছিল। বিক্রিতে সমস্যা হয় না। ব্যাপারিরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভুট্টা কিনে নিয়ে যায়। চুয়াডাঙ্গা জেলায় স্থানীয় ভুট্টার ওপর নির্ভর করে কয়েকটি পোলট্রি ফিড কারখানা স্থাপিত হয়েছে। 

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরিনাথপুর গ্রামের চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, বোরোর চেয়ে ভুট্টা চাষ লাভজনক বলে, চাষিরা ভুট্টা চাষ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ বছর তারা আমেরিকান পাইয়োনিয়ার  পি-৩৩৫৫ জাতের ভুট্টা চাষ করেছে। এ জাতটির ফলন প্রচলিত জাতগুলোর চেয়ে বেশি হবে।