বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে ছাত্রলীগের দুটি ইউনিটের মারামারিতে আহত হয়েছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসিম উদ্দিন হল ইউনিট ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এ ঘটনা ঘটে৷
এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ঢাকা কলেজ ইউনিটকে আক্রমণ করলে সেখানে তিনিও হামলার শিকার হন।
এ ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যসহ ১০ জনের অধিক আহত হয়৷ আহতদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে কর্মসূচি উদ্বোধনের আগে ঢাকা কলেজ ও জসিম উদ্দিন হলে নেতা-কর্মীরা বটতলায় গিয়ে উপস্থিত হয়। সেখানে দাঁড়ানো নিয়ে দুইগ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতি এক পর্যায়ে মারামারির পর্যায়ে চলে যায়।
তখন নেতা-কর্মীরা চেয়ার ছোড়াছুড়ি, লাঠি, ইট পাটকেল মারামারি শুরু করে। এক পর্যায়ে মারামারি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ঝগড়া থামাতে স্টেজ থেকে নিচে নেমে আসেন। তখন লেখক ভট্টাচার্যের মাথায় একটা ইট আঘাত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য মতে, লেখক ভট্টাচার্যের মাথায় আঘাত লাগার পরপরই সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ঢাকা কলেজ ইউনিটের নেতা-কর্মীদের মারতে থাকেন। সেখানে জয়ও আহত হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লেখক ভট্টাচার্যকে হেলমেট পরিয়ে গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো অনুষ্ঠানে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্বয়ং সাধারণ সম্পাদকের আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং চেইন অব কমান্ডের ব্যত্যয় সুস্পষ্ট হয়। এ ঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
পরে আহত হওয়ার পর মাথায় পতাকা বেঁধে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ছাত্রলীগ সেক্রেটারি।