উর্মির স্মার্ট লেদারের পণ্য যাচ্ছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ড

রাবেয়া বেবী

ছোটবেলায় যশোরের চামড়া বাজারের পাশে বাস করতেন মাসুদা ইয়াসমিন উর্মি। বিয়ে হয়ে এক চাচা শ্বশুর পান, যিনি চামড়ার ব্যবস্যা করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। মূলত তাকে দেখেই মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা উদ্যোক্তা হওয়ার বাসনা জেগে ওঠে উর্মির। তাই স্বামীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে চাচা শ্বশুরের সঙ্গে শুরু হয় তার চমড়া কেনা-বেচার কারবার। চামড়া কেনা আর বেচার দায়িত্ব পালন করতেন নিজেই। এক বছর যৌথভাবে কাজ করে পরে একাই কারবার শুরু করেন। সেই থেকে পরিশ্রম সততা আজ তাকে এনে দিয়েছে রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন সম্মাননা-২০১৬। ২০১৮ সালে রাষ্ট্রপতি উর্মির হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালের এসএমই ফাউন্ডেশনের বর্ষসেরা মাইক্রো উদ্যোক্তা নারীর সম্মাননাসহ  নারী দিবসের মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক সম্মাননাও পেয়েছেন। ২০১৫ সালে মোহাম্মদপুর টোকিও স্কয়ারে উর্মির ‘স্মার্ট লেদার’ প্রদর্শনী হয়। এখন তার ব্যাগ যাচ্ছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডসের বাজারেও। ৩০ জন স্থায়ী ও ২০ জন অস্থায়ী কর্মী কাজ করছে তার স্মার্ট লেদার কারখানায়। এখন উর্মির স্বপ্ন তার প্রতিষ্ঠানকে একটি বড় ইন্ডাস্ট্রিতে উন্নীত করা। যেখানে কর্মসংস্থান হবে হাজারো মানুষের।

উর্মির কাছে জানতে চাই একজন চামড়াশিল্প উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের গল্প। তিনি জানান, ব্যবসায়ী হওয়ার পেছনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রয়োজনীয় মূলধন। নারীর বড় চ্যালেঞ্জ হলো সন্তান সংসার সামলে কাজ করা। তখন তিনি মনোবিজ্ঞানে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বিসিএসএ’র প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় তার চাচা শ্বশুরের সঙ্গে একবছর যৌথভাবে কাজ করে বেশ ভালো লাভ হয় তার। মূলধন বাড়লে একাই ট্যানারিতে গিয়ে চামড়া কেনা আর বেচা শুরু করেন। চামড়াশিল্পে তখন তেমন কোনো মেয়েকে কেউ দেখতে পেত না । তাই উর্মির প্রতি ছিল সবার একটু অন্যরকম দৃষ্টি। কিন্তু উর্মি এই সব তোয়াক্কা না করে নিজের ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। চামড়াশিল্পে তার লাভ ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এক সময় উর্মি চামড়া কেনা-বেচার জন্য লোক নিযুক্ত করেন। সেই লোক বাকিতে কেনা-বেচা করে উর্মিকে মূলধন সংকটে ফেলে দেয়।

উর্মি বলেন, সেই সংকট থেকে কীভাবে তিনি উঠে এসেছেন। তিনি বলেন, এই সংকটকালে স্বামী এ ব্যবসা না করার পরামর্শ দেন। কিন্তু কিছু না করার যন্ত্রণা তার জন্য বড় ধরনের অসুস্থতা ডেকে আনে। সেই অসুস্থতা থেকে ফিরে আসতে কিছু গয়না বিক্রি করে গোপনে ফের শুরু হয় তার ব্যবসা। এবার ছোট্ট একটি ঘরে দুটি পুরান মেশিন কিনে দু’জন শ্রমিক দিয়ে শুরু করেন লেডিস ব্যাগ আর অফিস ব্যাগ তৈরির কাজ। তৈরি পণ্য বাজারজাত শুরু হয়। প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে। ফের তিনি ব্যবসায় সাফল্য পেতে থাকেন। বাড়তে থাকে কারবার।