ডুরান্ড লাইনে কোনো বেড়া দেওয়া যাবে না: তালেবান

ডুরান্ড লাইনে কোনো বেড়া দিতে অনুমতি দিবে না তালেবান কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এমনটা জানিয়েছেন আফগানিস্তানের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত বাহিনীর প্রধান মৌলভি সানাউল্লাহ সানজিন বলেন, আমরা আর ডুরান্ড লাইনে কোনো বেড়া দিতে অনুমতি দিব না। তা এ বেষ্টনী যেকোনো ধরনের হোক না কেন তা নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। আগে যে বেড়া দেয়া হয়েছে, তা তারা (পাকিস্তান) দিয়ে ফেলেছেন (এটা নিয়ে আর কিছু করার নেই)। কিন্তু, নতুন করে আফগান সীমান্তে কোনো বেড়া দেয়া যাবে না।

এদিকে পাকিস্তান সীমান্তে ডুরান্ড লাইন অঞ্চলে দেশটির সীমান্ত বেষ্টনী নির্মাণে বাধা দিতে ৩০টির বেশী ঘাঁটি বা চৌকি নির্মাণ করেছে তালেবান কর্তৃপক্ষ।

তালেবান কর্তৃপক্ষ আরো বলেছে, পাকিস্তান সীমান্তে ডুরান্ড লাইন অঞ্চলে দেশটির সীমান্ত বেষ্টনী নির্মাণের পর উভয় দেশের মানুষ অভিযোগ করেছেন যে তারা এখন আর চলাচল ও যোগাযোগ করতে পারছেন না।

১৮৮০ সালের দিকে দ্বিতীয় অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধের পরে আফগানিস্তানের তখনকার আমির আসলে ব্রিটিশ রাজের হাতে এক ধরণের আটকা হয়ে পড়ে। তখন আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্রিটিশ রাজের অধীনে এবং অভ্যন্তরীণ কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীন একটা দেশে পরিণত হয়। কৌশলগত খাইবার পাসের নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষার জন্য তখন ব্রিটিশ ভারত তাদেরই অধীনস্থ আফগান আমির আব্দুর রহমান খানকে একটা সীমান্ত চুক্তি করতে বাধ্য করে। ব্রিটিশ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার মর্টিমার ডুরান্ড এই সীমানা নির্ধারণী রেখাটি আঁকেন বলে এর নামকরণ হয় ডুরান্ড লাইন। 

গত ২০ বছরে মার্কিন সমর্থিত আফগানিস্তানের কোনো সরকারই এই ডুরান্ড লাইনকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, তারা ক্ষমতায় এলে যেন ডুরান্ড লাইন মেনে না নেয়।

এর মাঝে জল অনেক গড়িয়েছে। পাকিস্তান এখন তালেবানকে সহযোগিতা করছে। তালেবানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসা প্রায় নিশ্চিত। তাই পাকিস্তান আশা করবে তালেবান সেই ১২৮ বছর আগের চুক্তি মেনে নিয়ে বর্তমান সীমানাকে স্বীকৃতি দেক।