সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করতে বিলম্ব

সিলেটের হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’ (পিআইসি) গঠনে বিলম্বতার কারণে সময়মতো বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে আগামী বর্ষার শুরুতে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিজনিত কারণে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষককুল। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে পিআইসি গঠন শুরু করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পিআইসি গঠন হয়নি। অথচ এ বিষয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা ‘কাবিটা কমিটি’র সভায় তাগাদাও দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জ জেলার ৭০১টি পিআইসির মধ্যে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র ২৬টি পিআইসি গঠন করা হয়।

ইউপি নির্বাচনজনিত কারণে, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যগণের কাছ থেকে কমিটি না পাওয়াসহ নানা কারণে পিআইসি গঠিত হচ্ছে না। এই অবস্থায় ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্নের সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবে কি না, শঙ্কা রয়েছে। সময়মতো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মিত না হলে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হবে। কৃষকের সারা বছরের খোরাকি পানিতে ভেসে যাবে। উল্লেখ্য, সিলেট বিভাগের বোরো ফসল জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, এ বছর সুনামগঞ্জের ৩৬টি হাওর রক্ষা কাজে ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই টাকায় জেলার ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৫২০ কিলোমিটার বাঁধের কাজ হবে। কাজের মধ্যে রয়েছে : বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও দেড় শতাধিক ক্লোজারের কাজ। তিনি জানান যেসব স্থানে পিআইসি গঠিত হয়েছে সেসব স্থানে কাজ শুরু হয়েছে। 

এদিকে কর্মকর্তারা জানান, হবিগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলার ২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ হবে এতে ব্যয় হবে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে ২৭টি পিআইসি গঠনের কাজ শেষ। হবিগঞ্জ জেলার পাঁচ উপজেলায় ২২ কিলোমিটার মিটার বাঁধ নির্মাণে ব্যয় বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ২৭টি পিআইসি গঠন শেষ।

গত বছরের বাঁধের কাজের বকেয়া টাকা পেতে দেরি হওয়ায় এবার অনেকেই কাজ করতে নারাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন পিআইসির সদস্য জানান, গত বছরের হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ করেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত বিলের অর্থ পাওয়া যায়নি। বাঁধের কাজ আদায়ে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। কখনো পুলিশি গ্রেফতারি ভয়। তখন বাঁধের শেষ সমাপ্ত করে ঋণ করে টাকা এনে কাজ সম্পন্ন করা হয়। নীতিমালা অনুয়ায়ী কাজ করেও যথাসময় অর্থ মেলে না। এ কারণে বাঁধের কাজে আগ্রহ কমেছে কৃষকদের মধ্যে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, গত বছরের পাঁচটি প্রকল্পের কাজে ত্রুটি থাকায় বকেয়া বিল দেওয়ায় হয়নি। তবে ঐসব প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। গত বুধবার জগন্নাতপুর উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক যৌথসভায় চলতি বোরো ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।