৫২ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পেরিয়ে ৫২ বছরে পদার্পণ করেছে। বুধবার (১২ জানুয়ারি) দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদযাপন করেছে কর্তৃপক্ষ। 

এদিন সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের পর বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, জ্ঞান চর্চার তীর্থস্থান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিগত সময়ে অনেক কৃতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী পেয়েছে এবং অনেককে আবার হারিয়েছেও। জ্ঞান-বিজ্ঞানে যারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও গৌরব বৃদ্ধি করেছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো জ্ঞান জাগ্রত রাখা। এই জ্ঞান চর্চার মধ্যদিয়ে দেশ, জাতি এবং বিশ্বের জন্য কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ৫ দশকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নকে উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় সাড়ে ১৪শ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবয়ব আমুল বদলে যাবে। শিক্ষা ও গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টিসহ বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণ আবাসিক চরিত্র ফিরে পাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ।

এরপর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। বেলা এগারোটা ৫ মিনিটে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ১১ টা ৩৫ মিনিটে একক পরিবেশনা, ১১ টা ৫০ মিনিটে রঙ্গন-মাইম একাডেমি পরিবেশিত মূকাভিনয়, ১২ টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিবেশনায় পুতুল নাট্য প্রচার করা হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়।