শাহজাহাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের দেওয়া হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইসঙ্গে তারা শাবিপ্রবি উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এসময় তারা শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার ত্যাগ করতেও অনুরোধ করেন।
রবিবার (১৬ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের ওপর শাবি প্রশাসনের সহযোগিতায় পুলিশের আক্রমণাত্মক আচরণের প্রতিবাদে সোমবার তারা এমন পদক্ষেপে নেন। এছাড়া, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে শাবি ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, এর আগে সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে হলটির ছাত্রীরা করলে শাবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। প্রতিবাদে রবিবার সকাল ৮টায় শাবির সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
পরে, দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস আন্দোলনকারী ছাত্রীদের কাছে এক সপ্তাহ সময় চান। কিন্তু ভুক্তভোগী ছাত্রীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার বিচার চান তারা।
একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন থেকে শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বের হলে আন্দোলনকারী ছাত্রীরা তার পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি বিল্ডিংয়ের মধ্যে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ এসে রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে শাবি ভিসিকে উদ্ধার করে। পুলিশের এই গুলিবর্ষণ ও লাঠিচার্জে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
এদিকে, রবিবার সন্ধ্যায় এক নির্দেশনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় শাবি প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের এ নির্দেশনাকে প্রত্যাখ্যান করে শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আজ সকাল হতে আন্দোলন নামে শাবি শিক্ষার্থীরা।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।