আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিত্সক দিয়ে চলছে দুই লক্ষাধিক জনগণের চিকিত্সা সেবা। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে নানা সমস্যার মধ্যেও চিকিত্সকের তীব্র সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল প্রধান।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম মনিরুল ইসলাম জানান, চিকিত্সক সংকটের কারণে দুই লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার পশ্চিমাংশ, উজিরপুর উপজেলার উত্তরাংশ ও কোটালীপাড়া উপজেলার পূর্বাংশের লোকজন নিয়ে অন্তত তিন লক্ষাধিক মানুষকে সেবা দিতে হচ্ছে এ হাসপাতালটিতে।
তিনি আরো জানান, ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে চিকিত্সকের পদ রয়েছে ২১টি। এ ছাড়াও পাঁচটি ইউনিয়নের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের (সাব সেন্টার) দায়িত্বে থাকার কথা পাঁচজন চিকিত্সকের। সবমিলে উপজেলায় মোট ২৬ জন চিকিত্সকের পদ থাকলেও ইউনিয়নের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে নেই কোনো চিকিত্সক। এ হাসপাতালে ২১ জন চিকিত্সক পদের বিপরীতে ডাক্তার রয়েছেন মাত্র তিনজন। এর মধ্যে ইউএইচএএফপিও হিসেবে অফিসিয়াল দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। রয়েছেন একজন ডেন্টাল সার্জন মমন কুমার দে ও একমাত্র আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. বকতিয়ার আল মামুন। হাসপাতাল প্রধান ডা. মোঃ একেএম মনিরুল ইসলামকে থাকতে হয় প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত। একমাত্র আরএমও বকতিয়ার আল মামুনের উপর নির্ভর করে চলছে হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা কার্যক্রম।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, স্বয়ংসম্পূর্ণ অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের অভাবে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করা যাচ্ছে না। হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন যাবত্ নষ্ট থাকায় রোগী বহনে সমস্যা, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট, পরীক্ষা নিরীক্ষার রি-এজেন্ট সংকট, হাসপাতালের মূল ভবন ও আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেন হাসপাতাল প্রধান ডা. মনিরুল ইসলাম।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ৩৯তম বিসিএস এ চিকিত্সক নিয়োগ দেয়া হলে হয়তো এ সমস্যার সমাধান হবে। অন্যান্য সমস্যার ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।