লক্ষ্মীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ রায়পুর-হায়দারগঞ্জ সড়কের প্রায় ১১ কিলোমিটার নির্মাণের কার্যাদেশ এক বছর মেয়াদের কাজ তিন বছরেও সংস্কার শেষ হয়নি। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ওই সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কার বিহীন হয়ে পড়ে আছে।
রায়পুর এলজিইডি কার্যালয় থেকে জানা যায়, আরটিআইপি-২ প্রকল্পের অধীনে ভাঙা সড়কটি সংস্কার ও মেরামতের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে টেন্ডার আহ্বান করে লক্ষ্মীপুর এলজিইডি। ওই সময় নোয়াখালীর মেসার্স হাছান রুপালী জেবি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০১৬ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া হয় এবং ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে ওই কার্যাদেশে।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আজম সুমন চৌধুরী জানান, জেলার রায়পুর-হায়দারগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার কাজে চরম গাফিলতি হচ্ছে। নতুন করে সংস্কার করা কাজও এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, পৌর শহরের অংশটুকু সংস্কার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। ঠিকাদারকে শতাধিকবার সংস্কারের জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো কাজ করবেন বলে তা বন্ধ রেখেছেন।
এ ব্যাপারে সাব ঠিকাদার আরমান হোসেন বলেন, সড়কের সব কাজই শেষ। অল্প একটু কাজ রয়েছে। অন্য সড়কের সঙ্গে এই সড়কটির কাজ করে দেওয়া হবে। অল্প কাজের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আনলে বড় অঙ্কের লোকশান গুণতে হবে। এছাড়াও সড়কটিতে শুরু থেকে আমাদের বড় অংকের লোকশান হয়েছে। তবে অল্প কাজের জন্য মানুষের কোনো ভোগান্তি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, গত বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে সময় বৃদ্ধি করে আরও একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবুও কাজ শেষ হচ্ছে না। তবে আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে।
আরটিআইপি-২ নোয়াখালীর প্রকল্প পরিদর্শক (এআরই) সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস বলেন, ওই ঠিকাদার কয়েকবার সময় নিয়ে কাজে গাফিলতি করছেন। তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কয়েকটি চিঠি দিয়েছি। কাজের সময় শেষে হলেও চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই প্রকল্প সময় রয়েছে। এর মধ্যে না হলে প্রতিষ্ঠানটি ব্ল্যাক লিস্টসহ সকল কাজ বাদ হয়ে যাবে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।