ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নেওয়া অথবা এর বিরোধিতার জন্য ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনাকেও একইভাবে মানতে হবে। সংস্কারের নামে একটি নতুন জামায়াত তৈরি করা যাবে না। সেটা হবে আরও প্রতারণামূলক ও ভয়ঙ্কর। তুরস্কের একে পার্টি, মিসরের মুসরীর শাসন তারই প্রমাণ। সে কারণেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনুসরণে একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে জরুরি ধরে অগ্রসর হতে হবে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর আয়োজিত ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা ঘোষণা’ দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে চকবাজার ট্রাজেডিতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সম্প্রতি স্বাধীনতার বিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে দলের একাংশের আহ্বানের কথা উল্লেখ করে মেনন বলেন, সেটা ভালো কথা, কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়, বরং জামায়াতকে নিষিদ্ধকরণের মাধ্যমে এর পুনরুত্থান রোধের সকল প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আলোচনা সভার মূল আলোচক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়, স্বাধীনতার পর দেশটা কেমন হবে সেটাও উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল, যেটা সেদিনকার ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) তার কর্মসূচিতে তুলে ধরেছিল। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঐ কর্মসূচির কারণে সামরিক আইনে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড পাওয়া ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নেতা জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।
ঢামেক হাসপাতালের
বার্ন ইউনিটে মেনন
চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের দেখতে গতকাল ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান। সেখানে তিনি অগ্নিদগ্ধদের সাথে কথা বলেন ও চিকিত্সার খোঁজখবর নেন। এ সময় তার সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন, বার্ন ইউনিটের সিইও অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা আলমগীর রতন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।