ইউনেসকোর পর সৌদির স্বীকৃতি পেলো কেরানীগঞ্জের লাল মসজিদ

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ধোলেশ্বর এলাকার এই লাল মসজিদটি এশিয়া মহাদেশের নয়টি স্থাপনাকে গত নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা (ইউনেসকো) স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতির পাওয়ার পরপর সৌদি আরব সরকার গত ২৫ ডিসেম্বর দৃষ্টি নন্দন লাল মসজিদটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইউনেসকো ও সৌদি আরবেরব স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও থানা পর্যায় থেকে এ মসজিদটিকে একনজর দেখতে ও জুম্মার নামাজ আদায় করতে শত শত মুসল্লিরা প্রতি শুক্রবার ছুটে আসছে কেরানীগঞ্জের ধোলেশ্বর এলাকায়। 

১৮৬৮ সালে কেরানীগঞ্জের ধোলেশ্বর এলাকার বাসিন্দা ও পুলিশের সাবেক দারোগা আমিন উদ্দিন আহমদ দুই গম্বুজ বিশিষ্ট একতলা এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিল। এরপর থেকে এলাকায় নাম প্রচলন হয় দারোগা বাড়ি মসজিদ। দিন দিন মসজিদটিতে মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ধোলেশ্বর এলাকার কৃতি সন্তান বিদ্যুৎ জালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা তিন আসনের সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ বিপুর নিজ অর্থায়নে ২০২১ সালে মসজিদটিকে বড় করে আধুনিক ডিজাইনে রূপান্তিত করে।

লাল মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

লাল মসজিদটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যম প্রচার হলে ইউনেসকো ও সৌদি আরব সরকার মসজিদটিকে স্বীকৃতি দেয়। এ স্বীকৃতির খবর জেনে দূর-দূরান্ত থেকে নামজ আদায় ও এক নজর মসজিদটিকে দেখতে শত শত মুসল্লিরা উপস্থিত হচ্ছেন কেরানীগঞ্জে। 

লাল মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানান, দারোগা বাড়ি মসজিদটি দীর্ঘ বছরে পুরাতন হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পরে। এলাকার মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতে না পারায় ২০২১ সালে নিজ উদ্যেগে ও খরচে মসজিদটিকে আধুনিক ডিজাইন ও অনেক প্রশস্ত করে নতুন রূপ দিলে ইউনেসকো ও সৌদি আরব স্বীকৃতি দেন। এ লাল মসজিদটিতে এখন এক সাথে পাঁচ থেকে সাঁত হাজার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেন।

তিনি আরোও জানান, তার এ নির্মিত লাল মসজিদটি এখন কেরানীগঞ্জ বাসীদের জন্য গর্বের।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহীন আহমেদ জানান, এখন থেকে ধোলেশ্বর লাল মসজিদটির দেখাশুনা ও পেশ ইমাম, খতিব এবং মোয়াজ্জেম বেতন ভাতা সার্বিক ব্যবস্থা উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া হবে।