চকবাজার ট্র্যাজেডি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর-এর সাবেক উপ-পরিচালক সেলিম নেওয়াজ ভুঁইয়া বলেছেন, যখনই এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে তখন আমাদের টনক নড়ে। কেন হলো, কিভাবে হলো এসব আলোচনা শুরু হয়। গতকাল ইত্তেফাককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব কথা বলেন।
এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় অনেক রাস্তা এতই সরু যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারে না। ঢাকা সিটির আরো অনেক জায়গায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে পারে না। এ অবস্থায় নগরীতে ‘ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম’ চালু করতে হবে। তাহলে যে সব জায়গায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারবে না সেখানে মোটর সাইকেলে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে আগুন নেভানো যাবে।
ফায়ার সার্ভিসের এই সাবেক উপ-পরিচালক বলেন, পৃথিবীর কোন দেশেই আগুন নেভানোর জন্য পানির এত গাড়ি যায় না। এভাবে বাইরে থেকে পানি ভরে নিয়ে আসে না। যদি আমরা ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম চালু করতে পারি তাহলে ঢাকার যেকোন জায়গায় আমরা বুড়িগঙ্গার পানি ব্যবহার করতে পারি। কারণ, পানি নেভানোর জন্য আমাদের সুপেয় পানি লাগবে না। যেকোন পানি ব্যবহার করতে পারলেই হলো।
আর যে বিষয়গুলো সবার সামনে চলে আসে তা হলো, এসব কারখানার কোন অনুমোদন নাই। ভবনের নিচে কেমিক্যালের গোডাউন আর উপরে মানুষ বসবাস করছে। এটা কল্পনা করলেও গা শিউরে ওঠে। দেশের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু সেটা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হবে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যাবে-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় কি ধরনের কেমিক্যাল কারখানা আছে-তার একটা তালিকা করতে হবে। কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর বসে তাদের কি ধরনের ফায়ার সিস্টেম দরকার তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেইসাথে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে র্যাপিড অ্যাকশন চালাতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যেভাবে কোন দুর্ঘটনায় ঝাঁপিয়ে পড়ে তা তুলনাহীন। কিন্তু এখনো আমাদের উন্নত মানের সরঞ্জাম নেই। দ্রুত এসবের ব্যবস্থা করতে হবে।