অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী শহরে প্রধান একটা সড়কের ওপর ১৫ নম্বর সলসবার্গার ভরস্টার্ড ঠিকানার বাড়িটা সাধারণ চোখে সাদামাঠা একটা বাড়ি। কিন্তু পাশের রাস্তায় একটা পাথরে খোদাই কথাগুলো দেখলে সে ধারণা বদলে যেতে পারে। জার্মান ভাষায় সেখানে ফ্যাসিবাদের শিকার লাখো লাখো মানুষের উল্লেখ আছে। এ বাড়িতে ১৮৮৯ সালে জন্মেছিলেন অ্যাডল্ফ হিটলার। যদিও সেকথা স্পষ্ট করে কোথাও উল্লেখ করা নেই।
হিটলারের জন্মদিন উদযাপন করতে এই বাড়িতে প্রতি বছর দলে ভিড় জমান নব্য-নাত্সীরা। ২০১৬ সাল থেকে এ বাড়ির মালিক অস্ট্রিয়ার সরকার। সে সময় সরকার তিন লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যে এ বাড়িটি কিনেছিল এবং এটি ধ্বংস করে ফেলার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু বাড়িটির পূর্বতন মালিক সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এ বছরের প্রথম দিকে আদালত সরকারকে আরও ১৭ লাখ ডলার দেবার নির্দেশ দেয়। আদালত বলেন, যেহেতু ইতিহাস জড়িয়ে আছে, তাই ওই বাড়ির দাম এখন অনেক বেড়ে গেছে এবং সেই বিবেচনায় বাড়িটির বর্তমান মূল্য ১৭ লাখ ডলারের বেশি। তবে ঐতিহাসিক হলেও বিতর্কিত এরকম আরও কিছু স্থাপনা আছে।
মুসোলিনির সমাধি : ইটালির ফ্যাসিবাদী নেতা মুসোলিনির সমাধি তার ভক্তদের জন্য দর্শনীয় স্থান। তার জন্মস্থান ইটালির উত্তরাঞ্চলে ছোট শহর প্রেদাপ্পিওতে প্রতি বছর তিনবার ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। অনুরাগীরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার জন্মদিনে (২৯ জুলাই ১৮৮৩) এবং মৃত্যুদিনে (২৮ এপ্রিল ১৯৪৫ জনতার হাতে তিনি প্রাণ হারান) ও ১৯২২ সালের অক্টোবরে যে গণবিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে মুসোলিনির ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসে, তার বার্ষিকী স্মরণ করতেও প্রতিবছর সেখানে মানুষের সমাগম হয়।
পাবলো এস্কোবারের সমাধি : পাবলো এস্কোবারকে বলা হয় সর্বকালের সবচেয়ে কুখ্যাত মাদকচক্রের নেতা। মেডেলিনের কাছে ইটাগুনিতে তার সমাধি। ১৯৯৩ সালে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান এস্কোবার। কথিত আছে এস্কোবার আনুমানিক ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির জন্য দায়ী। কিন্তু অনেকের কাছে তিনি একধরনের নায়ক। তার জীবন নিয়ে ছবি ‘নারকোস’ নেটফ্লিক্সে প্রদর্শিত হবার পর তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: মেলায় এখন বই কিনবার বেলা
ইউজিন টেরেব্লাঞ্চের খামার : ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী প্রশাসনের অবসান ঘটে। তখন কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে বিভেদ অবসানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন শ্বেতাঙ্গ কৃষক ইউজিন টেরেব্লাঞ্চ। ২০১০ সালে তারই এক সাবেক কর্মচারী তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ভিল্লানা নামক গ্রামে ইউজিনের খামারে নানাধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। ২০১৪ সালে ভিল্লানাকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামের মর্যাদা দেবার দাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার হেরিটেজ কাউন্সিলে প্রস্তাব পাঠানো হলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
ইত্তেফাক/আরকেজি