ইউপি নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা

ষষ্ঠ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ সোমবার। গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত উপেক্ষা করে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এ সময় বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ৫০ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রশাসন জানিয়েছে। এদিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে দলীয় প্রার্থীরা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার সাত ইউনিয়নের পাঁচটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হচ্ছে। মির্জাপুর, আলমনগর, ধোপাকান্দি, নগদাশিমলা ও হাদিরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৬, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৫১ আর সদস্যপদে ১৫৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে একমাত্র মহিলা প্রার্থী বিলকিস জাহান হাদিরা ইউনিয়নে নৌকা নিয়ে লড়ছেন। সবকটি ইউনিয়নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নৌকাকে বাগড়া দিচ্ছে। ফলে নির্বাচন হয়ে উঠছে সহিংস। প্রতিদিনই কর্মীদের মধ্যে মারামারি, হামলা, ভাঙচুর, প্রচারকাজে বাধা দান এবং নির্বাচনি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। শনিবার আলমনগর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এহসানুল হক ওপেল প্রতিপক্ষের কর্মীদের হাতে নাজেহাল হন। তিনি নৌকার কর্মীদের এ জন্য দায়ী করেন। গত শনিবার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের পুত্র সুমনসহ তিন কর্মীকে মারধর করা হয়। হামলার জন্য স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের কর্মীদের দায়ী করে থানায় মামলা হয়। পুলিশ আনারস মার্কার কর্মী নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। ওসি মোশারফ হোসেন জানান, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে তারা কঠোর ভূমিকা নিচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ মল্লিক জানান, ৫০ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ।

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, তীব্র শীত উপেক্ষা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়েছেন। এই উপজেলার মোট ৯টি ইউনিয়নের ৯টিতেই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বাইরেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। ফলে নির্বাচনে জয়ী ও দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। উপজেলার ৯ ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক জন নেতাকর্মীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, দলের মনোনীত প্রর্থী পছন্দ না হওয়ায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা আরো জানান, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় এমনটি হয়েছে। ফলে দলের মনোনীত বেশির ভাগ প্রার্থী পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৩১ জানুয়ারি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, সারিয়াকান্দির ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৭ হাজার ৫৮৯ জন এবং নারী ৮০ হাজার ৯৭ জন। সর্বমোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৬০২ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ৭১ জন, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য ১৪০ জন, সাধারণ সদস্য ৩৯১ জন। সর্বমোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০৫টি এবং বুথ সংখ্যা ৫১৬ টি।