'জনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না শাবির আন্দোলনকারীরা'

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাবাসী ও জনসাধারণের বিরুদ্ধে যায়, এমন কাজে জড়াবে না শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার, ইয়াছির সরকার, মীর রানা ও শাহরিয়ার আবেদীন স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা এ বিষয়ে জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, 'আমরা শাবি শিক্ষার্থীরা বলতে চাই, আমাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার জনসাধারনের কোনো বিরোধ নেই এবং তাদের শান্তি বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কর্মকান্ডে আমরা জড়িত নই এবং ভবিষ্যতেও হব না।'

তারা বলেন, 'প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শাবি শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করেছে। ১৬ জানুয়ারি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পরও আহত ও বিপন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য এলাকাবাসীর উদ্বেগ ও সহমর্মিতা আমরা লক্ষ্য করেছি।'

তারা আরও বলেন, 'সম্প্রতি স্থানীয় একটি অনলাইন পোর্টালে এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় শাবিতে অবাঞ্ছিত উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ বরাবর একটি স্বারকলিপি জমাদানের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এরপরই কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায় এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে যে স্মারকলিপির কথা বলা হয়েছে তার কথা খোদ স্মারকলিপিতে এলাকাবাসীর পক্ষে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিই জানেন না। দীর্ঘ অনশনের পর যখন শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, তখন এ ধরণের বানোয়াট অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যকার সৌহার্দ্যকে বিনষ্ট করার কূটচাল বলেই প্রতীয়মান হয়। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের এভাবে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।'

প্রসঙ্গত, সোমবার (৩১ জানুয়ারি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বরাবর শাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী একটি স্মারকলিপি দেয় বলে স্থানীয় কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে 'সংবাদ' প্রকাশিত হয়।

এ বিষয়ে শাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির সোমবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ইত্তেফাককে বলেন, আমিও শুনেছি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটা স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। 

এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, 'আমরা অত্র এলাকার সম্মানিত বাসিন্দা। এই বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) আমাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তির উপরে আল্লাহর একজন ওলির নামে প্রতিষ্ঠিত। বিশ্ববিদ্যালয় এখানে প্রতিষ্ঠিত হউক এটা সিলেটের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল।'

'সময়ের ব্যবধানে একজন ওলীর নামে শেষ পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যা আমাদের গর্বের বিষয় এবং আমাদের আত্মার সম্পর্ক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, একজন মহান ওলির নামের ক্যাম্পাসে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ছেলে-মেয়েরা টিলার উপরে সেন্ট্রাল অডিটরিয়ামের আশেপাশে এবং এখানে সেখানে ঢলাঢলি-হাতাহাতির যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে তা কোন সুস্থ ও বিবেকবান মানুষ মানিয়া নিতে পারিবে না। এমনকি মা-বোনকে নিয়ে গর্বিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আশাপাশে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে যাহা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই ধরনের কাজকে আমরা এলাকাবাসী ধিক্কার জানাচ্ছি এবং মহান ওলির নামের গুণকে অপমান করা হচ্ছে বলে মনে করি।'

উপাচার্যের উদ্দেশে বলা হয়, 'অতএব হুজুর সমীপে আমাদের আকুল আবেদন আপনাকে কঠোর হস্তে এ কাজগুলো দমন করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আপনার পাশে আছি। প্রয়োজনে আপনি আমাদের পাশে পাবেন। এই ওলীর নামের গুণকে বাঁচানোর জন্য কাফনের কাপড় পরে আপনার সাথে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।'

তবে স্মারকলিপির নিচে স্বাক্ষরে যার নাম হয়েছে, সেই আনোয়ার হোসেন দাবি করেন তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, 'আমরা বাইরের সাধারণ মানুষ, এগুলো আমরা করবো কেন? এ বিষয়ে আমি জানিনা। আমাদের নাম ব্যবহার করে অন্য কোনো মহল এধরনের কাজ করে থাকতে পারে।'