ইটভাটায় পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি ব্যবহারের সুপারিশ

চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যেই সব ইটভাটা যাতে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করে,সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই সুপারিশের কথা জানিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে সব ইটভাটা যেন পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইট প্রস্তুত করে, সেজন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যেসব ইটভাটা এটি অনুসরণ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশও করেছে কমিটি।
হাছান মাহমুদ জানান, বৈঠকে ‘ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ দ্রুত কার্যকরের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয়ার পাশাপাশি মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও যেন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়, সেই অনুরোধও করেছে সংসদীয় কমিটি।
কমিটি সভাপতি বলেন, আইন অনুযায়ী ইট পোড়ানো না হলে সরকার নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে। বর্তমানে ৪০ শতাংশ ইটভাটা পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করছে। বাকি ৬০ শতাংশ ইটভাটাকে পরিবেশবান্ধব করতেই এ উদ্যোগ।
এদিকে, সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে অবৈধ পলিথিন নির্মূল, পলিথিন রিসাইক্লিং ও পরিবেশ আদালত সম্পর্কেও আলোচনা হয়। বৈঠকে পরিবেশ দুষণের ব্যপকতা রোধে ‘পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০’ এর বিভিন্ন ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়। গণমাধ্যমের সহায়তায় পলিথিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা, রিসাইক্লিং ব্যবস্থা চালু রাখা এবং পাটজাত দ্রব্য ব্যবহারের ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া চট্টগ্রামের রেলওয়ের গাছ কাটার জন্য দায়ী রেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
হাছান মাহমুদদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য- পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, উপমন্ত্রী আব্দুুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, আব্দুর রহমান, নবী নেওয়াজ, ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী, টিপু সুলতান ও মেরিনা রহমান অংশ নেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।