পাচার হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের প্রস্তাব অনুমোদন

 
 
পাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার, প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর (এমওইউ) করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে উত্থাপন করা হয়। ২-৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ সমাঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ভারত সরকার সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মানব পাচারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে নারী ও শিশু পাচার রোধে এ সমঝোতা স্মারকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ বাংলাদেশ থেকে নারী ও শিশুরা বিভিন্ন দেশে পাচার হয়; সবচেয়ে বেশি পাচার হয় ভারতে। ভারত থেকেও পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসে। পাচার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ বছর পর্যন্ত যে কাউকে শিশু বিবেচনা করা হবে বলে সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ আছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানব পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই সচেতন। বর্তমানে কিছু কাযক্রম চলছে, যেমন দুই দেশের স্বারষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফোকাল পয়েন্ট আছে। দুই দেশের মধ্যে একটি টাস্কফোর্সও পাচার ঠেকাতে কাজ করছে। তিনি বলেন, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যার যার দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানব পাচার বন্ধে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নেয়া হবে। একই সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আওতায় মানব পাচার বন্ধে দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় করা হবে।

এছাড়া মন্ত্রিসভায় ‘রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল) আইন-২০১৪’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৭৬ সালে একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল) আইনটি জারি করা হয়। রেলের সম্পত্তি অবৈধ দখল শাস্তি প্রদানের জন্য এ আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল) আইন ২০১৪’তে নতুন কয়েকটি ধারা অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে। এসব ধারাগুলোতে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না তা আরো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখা হবে ।