তড়িঘড়ি করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী না করার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, সংবিধান সংশোধন, বিচারপতিদের অভিশংসন ও তার প্রেক্ষাপট নিয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের সংশোধনী আনার আগে ব্যাপকভিত্তিক জনমত যাচাইয়ের জন্য সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘সংবিধান সংশোধন, বিচারপতিদের অভিশংসন এবং এর তাত্পর্য’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোনায় বিশিষ্টজনেরা এ মতামত দেন। আলোচনায় এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
সুজনের চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন-প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী, গবেষক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান শেলী, বাসদ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যর আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।
ড. কামাল প্রশ্ন তোলেন, জুলাই মাসে হঠাত্ করে সব কাজ বাদ দিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু করল কেন? অথচ সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের আইন এখনো হয়নি। বিচার বিভাগের এসব বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে সংবিধান সংশোধন কেন জরুরি হলো।
বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী বলেন, সংবিধানের ১৭ তম অনুচ্ছেদ কার্যকর রেখে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা বাস্তবায়ন হলে সরকারের নির্দেশ মতই বিচারপতিদের কাজ করতে হবে। এতে বিচারপতিদের স্বাধীনতা খর্ব হবে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ’৭২-এর সংবিধানে যাওয়ার কথা আমরা আগেও শুনেছি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে যেহেতু বিতর্ক উঠেছে, উদ্বিগ্ন দেখা দিয়েছে, তাই এর বিহীত হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান বিচারপতিরা রয়েছেন, প্রবীন আইনজ্ঞ ও আইনজীবীরা রয়েছেন। সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সাধারণ সম্পাদকেরা রয়েছেন। সাবেক এটর্নি জেনারেলরা রয়েছেন। সবাইকে নিয়ে বসে এর বিহীত করতে হবে। এতে সরকারেরও অস্থির হওয়ার কিছু নেই, আমাদেরও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৮(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হতে পারে, সেইরূপ পদ্ধতি ও কারণে কোনো নির্বাচন কমিশনারও অপসারিত হবে। এমনিভাবে মহাহিসাব নিরীক্ষক এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্য সদস্যদের অপসারণের ক্ষেত্রে যথাক্রমে সংবিধানের ১২৯(২) ও ১৩৯(২) অনুচ্ছেদের বিধানও একই।