ঐতিহ্যবাহী লাল রং ফিরে পেল রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী

 
 
শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ীর লাল টকটকে সুড়কি রং মুছে দিয়ে হলদে সাদা রংয়ে আচ্ছাদিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৮ বছর পর এই কুঠিবাড়ী ফিরে পেয়েছে তার আসল রং। তাই রবীন্দ্র ভক্তদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্¿ণালয় গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিলাইদহ কুঠিবাড়ীর মূল ভবন ও চারপাশের দেয়াল পূর্বের সেই সুড়কি রংয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
প্রায় একশ’ বছর আগে প্রিন্স দ্বারকানাথ শিলাইদহ কুঠিবাড়ীসহ জমিদারিত্ব কিনে নিয়েছিলেন। সেই থেকে লাল টকটকে সুড়কি রংয়ের কুঠিবাড়ীতে বসেই বংশ পরম্পরায় জমিদারিত্ব চালিয়ে আসছিলেন ঠাকুর পরিবার। পৈত্রিক সূত্রে প্রিন্স দ্বারকানাথের দৌহিত্র বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮১৩ সালের দিকে জমিদারিত্বের দায়িত্ব নিয়ে শিলাইদহে আসেন। এখানে বসেই গীতাঞ্জলীসহ তিনি সাহিত্যের অনেক মূল্যবান সৃষ্টি রচনা করেছেন। তাই রবীন্দ্র সাহিত্যে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে বিবেচিত। ছবিতে, পাঠ্য বইয়ে এমনকি ইন্টারনেটে ত্রিকোণ বিশিষ্ট লাল রংয়ের বাড়ী দেখলেই সকলে ধরে নিত এটি কবিগুরুর শিলাইদহ কুঠিবাড়ী। কিন্ত আশ্চর্যজনকভাবে ২০০৬ সালে কবিগুরুর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ীর পূর্বের লাল সুড়কির রং মুছে দিয়ে হলদে সাদা বা অফ হোয়াইট রংয়ে আচ্ছাদিত করা হয়। এতে মর্মাহত হয় বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের রবীন্দ্র ভক্তরা। তাদের অনেক আন্দোলন সংগ্রাম শেষে দীর্ঘ ৮ বছর পর রবীন্দ্র কুঠিবাড়ীর সেই লাল টকটকে রং আবার ফিরে এসেছে। স্বস্তি ফিরে এসেছে রবীন্দ্র ভক্তদের মাঝে।
শিলাইদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন তারেক জানান, তাদের দীর্ঘদিনের আশা ছিল শিলাইদহ কুঠিবাড়ী তার আসল ঐতিহ্য নিয়ে টিকে থাকুক। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল কুঠিবাড়ীর সেই ঐতিহ্যের প্রতি হিংসা পোষণ করে রং পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল। অবশেষে আন্দোলন সংগ্রাম শেষে সরকার কুঠিবাড়ীর সেই পূর্বের রং ফিরিয়ে এনেছে। এতে আমরা এলাকাবাসী খুবই আনন্দিত।
কুঠিবাড়ীর আঙ্গিনার একজন বই বিক্রেতা জানান, বিশ্বকবির কুঠিবাড়ীর ঐতিহ্য লাল টকটকে সুড়কি রং। কিন্তু একটি বিশেষ মহল রংটি পরিবর্তন করায় কুঠিবাড়ী তার আসল ঐতিহ্য হারিয়েছিল। এতে রবীন্দ্র ভক্তরা খুব মর্মাহত হন। এখন আগের রংয়ে ফিরে যাওয়ায় সবাই খুশি।
কুঠিবাড়ীতে আগত কয়েকজন দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা হয় সম্প্রতি। তাদেরই একজন ওবায়দুর রহমান বলেন, মিডিয়া ও এই এলাকার মানুষের আন্দোলনের কারণে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী তার রং ফিরে পেয়েছে। এখন এখানে আসলে মনে হয় সত্যিকারের রবীন্দ্রনাথকে যেন স্পর্শ করা যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও এ কুঠিবাড়ীকে কেমন যেন একটা অচেনা জায়গা মনে হতো। খবর বাসসের।