ঢামেক থেকে লাফিয়ে পড়ে রোগীর আত্মহত্যা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবম তলা থেকে লাফিয়ে নুরুন্নবী (৪০) নামের এক রোগী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এই ঘটনা ঘটে। অন্য দিকে, যাত্রাবাড়িতে এক স্কুল ছাত্রী ও ঢাকা কলেজের মিলনায়তনে এক ভবঘুরে যুবক আত্মহত্যা করেছেন।
মৃতের ভাই মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। গত মাসের ১৬ তারিখ তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০-১২ দিন চিকিত্সা দেয়ার পর চিকিত্সকরা তাকে রিলিজ দেন। হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদরের মহাদেবপুর নিয়ে হলে তার অবস্থার অবনতি হয়। পরে গত সোমবার রাতে পুনরায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিত্সকরা বলেন, নুরুন্নবীকে যে চিকিত্সা দেয়ার ছিল তা দেয়া হয়েছে। এখন তাকে ক্যান্সার হাসপাতাল বা ঢাকা মেডিক্যালর ক্যান্সার ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে।
শরিফ আরো বলেন, সকালে চিকিত্সকদের সাথে কথা কলে একটি ব্যবস্থা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে রাত ৩ টার দিকে দুই ভাই খাবার খেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল-২ এর নবম তলার ৭০১ নম্বর মেডিসিন রুমের পাশে ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল ৯ টার দিকে মানুষের হৈচৈ শুনে তার ঘুম ভাঙে। দেখেন পাশে তার ভাই নুরুন্নবী নেই। পরে শুনতে পান তিনে নবম তলার বারান্দা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এ দিকে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী স্বর্ণালী আক্তার লীমা (১৫) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আজ বেলা ৩টায় এই ঘটনা ঘটে। লীমার মা সাফিয়া বেগম জানান, দুপুরে লিমা বাথরুমে ঢুকে আর বের হয়নি। পরে দরজায় বেশ কয়েকবার শব্দ করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। এ অবস্থায় বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে ঝর্ণার সাথে গলায় ওড়না প্যাচানো অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক বেলা সাড়ে ৩টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লীমা যাত্রাবাড়ির নতুন কুঁড়ি হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল জলিল। তাদের পরিবার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ঝাউলাবাজার এলাকার ৩০ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকে। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়।
অন্যদিকে, আজ সকালে ঢাকা কলেজের ২ নম্বর গ্যালারির নিচ তলায় জানালার গ্রিলের সাথে ফাঁস দেয়া অবস্থায় সলিমুল্লাহ (৩৫) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, সলিমুল্লাহ বেকার যুবক ছিলেন। তার ভাই আমানুল্লাহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। ভাইয়ের সাথে তিনি  এলিফ্যান্ট রোড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল স্টাফ কোয়ার্টারে থাকতেন। তবে কী কারণে সেখানে আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে পরিবার থেকে পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি। পুলিশ আরো জানিয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃতের ধরন ও কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
 
ইঅ/চৌফে/শ৩৯৩