চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও কার্গো হ্যান্ডলিং দক্ষতা আরও বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইয়োহানেস জাটের সাথে বৈঠক করে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষে সহায়তা চান পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ইয়োহানেস জাট বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে সত্যিকারভাবেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও কার্গো হ্যান্ডলিং দক্ষতা বৃদ্ধিতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানেও আগ্রহী বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশে তাদের চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে এ সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা চেয়ে বলেন, সরকার কুতুবদিয়ায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরী করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংক তাদের প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারে। যেহেতু গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরী একটু সময়সাপেক্ষ সেক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংক তাত্ক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে পারে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্যই এটি দরকার। বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর সরকারের এ প্রস্তাবকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ব ব্যাংক চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে আগ্রহী। কুতুবদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরীতে বিশ্ব ব্যাংক প্রথমে সম্ভাব্যতা যাচাই করবে তারপর সরকারকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিবে।
বৈঠকে বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইফ্ফাত শরীফ বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তার অনেকগুলো খাতে সফলতা দেখালেও পুষ্টি খাতে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা দরকার। বিশ্ব ব্যাংক পুষ্টি খাতে সহায়তা দিতে নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছে। এ প্রকল্পের আওতায় গরীব এলাকার গরীব মা ও অপুষ্টিতে ভোগা তাদের সন্তানদের চিহ্নিত করে পুষ্টি সহায়তা দেয়া হবে। বৈঠকে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলামসহ পরিকল্পনা কমিশনের অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।