নিহত দম্পতির ছোট ছেলে নাজিব আহমেদ

ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতায় বনানীর ফ্ল্যাটে বাব-মার লাশ

 
 
 
 
ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে একের পর এক জমি বিক্রি করে দিচ্ছিলেন আফসার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি আব্দুর রব। এই নিয়ে তার স্ত্রীর রুখসানা পারভীনের সাথে বেশ কিছুদিন ধরে তার বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই বাব-মা নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন এই দম্পতির ছোট ছেলে নাজিব আহমেদ। আজ মঙ্গলবার বনানী পুরাতন ডিওএইচএস এর ৫ নম্বর রোডের ৬০/এ, বাদরিয়া রশিদ ভবনের ৪-এ নম্বর ফ্ল্যাটে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। সোমবার দিনগত  রাতে এই ফ্ল্যাটে এই দম্পতির গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, এ ঘটনায় নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষ সোমবার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহত দম্পতির মেজো ছেলে নাঈম আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পারিবারিক কলহকে নিহত হওয়ার কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়না তদন্ত শেষে লাশ দুইটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ আসর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে লাশ উদ্ধার করার সময় পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বেড রুমের বিছানায় রোকসানার লাশ উপুর হয়ে পড়ে ছিল। ঘরের দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে বসানো অবস্থায় ছিল আব্দুর রবের লাশ। রোকসানার বুকের ডান পাশে গোলাকার ও পিঠের ডান পাশে গভীর ছিদ্র রয়েছে। আবদুর রবের ডান কানের নিচে গোলাকার ছিদ্র রয়েছে। এই ছিদ্র মাথার বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।  এগুলো গুলির চিহ্ন বলে সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি পিস্তলের গুলির দুইটি খোসা উদ্ধার হয়। এছাড়া মেঝেতে পড়ে ছিল আব্দুর রবের ব্যবহূত লাইসেন্সকৃত পিস্তল।
এই দম্পতির মেজো ছেলে নাঈম আহমেদ জানান, তারা তিন ভাই ও এক বোন। বড় ভাই হাফিস আহমেদের বিয়ে হয় মাত্র ৫/৬ দিন আগে। ঘটনার দিন মঙ্গলবার তিনি নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুনে কক্সবাজারে ছিলেন। ছোট ভাই নাজিব আহমেদ। তারা তিন ভাই তাদের দাদীর গুলশানের ৯৫ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর বাড়িতে থাকেন। একমাত্র বোন ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রী সোনালী আহমেদ চাঁদনী থাকতো ডিওএইচএস এ তাদের বাবা-মায়ের সাথে।
তিনি জানান, তার দাদা আফছার আহমেদেরে নামে শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম আফছার গ্রুপ। বাবারা ছিলেন দুই ভাই। এদের মধ্যে আলাউদ্দিন আহমেদ ১৯৯১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। আফছার গ্রুপ পরিচালনার পাশাপাশি পুরো সংসারের দায়িত্ব পড়ে তার বাবা ওপর। পারিবারিক ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফতুল্লার আফছার অয়েল মিল ও সোনালী টোব্যাকো লিমিটেড ২০০১ সালে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেন বাবা। ১৯৯০ সালে আফছার গ্রুপ জনতা ব্যাংক থেকে ২০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। এই ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে সুদে আসলে প্রায় ৩৩ কোটি টাকায় পৌঁছে। পরে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের জন্য নারায়নগঞ্জের পাগলার মুন্সীখোলার ১০৫ বিঘা জমি তার বাবা আবুল খায়ের গ্রুপের কাছে ১২ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেন। এই জমি বিক্রির সময় তার বাবা আবুল খায়ের গ্রুপের কাছে গুলশানের ৯৫ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর দোতালা বাড়িটি ১৭ কাঠা জমিসহ বিক্রি করার বায়না করেন। কিন্তু এই জমিতে তার চার ফুফু ওয়ারিশ। এই বাড়িসহ এই জমি বিক্রি নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে বাবার কয়েকদিন কলহ চলছিল। তিনি আরো বলেন, তার বাবা একটু মেজাজী ছিলেন। এর আগে একবার মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি নিয়ে তিনি পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছিল। মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে গুলির ঘটনার পর তিনি ৯ টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে তার বাবা-মার ফ্ল্যাটে গিয়ে তাদের লাশ দেখতে পান। 
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার লুত্ফুল কবির জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। সত্যিই কি আব্দুর রব আগে স্ত্রীকে খুন কওে নিজে আত্নঘাতি হয়েছেন নাকি ঘটনা অন্য কিছু তা জানতে ফরেনসিক রিপোর্টের ওপর নির্ভর করতে হবে। এজন্য আব্দুর রবের ব্যবহূত পিস্তলের ফিঙ্গার প্রিন্স যাচাই-বাছাই করা হবে। এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
 
ইঅ/চৌফে/শ৫৬২