সরকারের এ মেয়াদেই ট্যনারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর সম্ভব হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলেই দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী ট্যানারি শিল্পকে হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে। এ ছাড়া, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিসিকের যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছ, সে অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্যোক্তারা তাদের ট্যানারি শিল্প কারখানা সাভারে স্থানান্তরের কথা। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা জানান।
একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের বিষয়ে সব উদ্যোক্তাকে দ্রুত গতিতে কাজ শুরুর তাগিদ দেয়া অব্যাহত রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে উদ্যোক্তাদের ৬৮ জন সরেজিমনে কাজ শুরু করেছেন। ১৫৫ জন উদ্যোক্তার মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪৯ জন লে-আউট প্ল্যান অনুমোদনের জন্য বিসিকে দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ১৪৭টি প্ল্যান অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং ২টি সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, ২০০৩ সালে ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ ব্যয় প্রাক্কলন করে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পকে সাভারে স্থানান্তরের প্রকল্প নেয়া হয়। ইতোমধ্যে ১০ বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। এ সময় প্রকল্পের ডিপিপি দুবার সংশোধন করা হয়েছে এবং চারবার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ সংশোধন অনুযায়ী প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা উদ্যোক্তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রকল্পের প্রথমদিকে সিইটিপির জন্য ব্যয় উদ্যোক্তাদের দেয়ার কথা ছিল। বর্তমান সরকার সর্বশেষ প্রকল্প প্রস্তাবে সিইটিপি নির্মাণের জন্য ৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন করেছে, যা সরকার বহন করবে। অন্যান্য ব্যয় ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের জন্য গঠিত কমিটি ক্ষতিপূরণ প্রদানের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে এবং উদ্যোক্তারা স্থানান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সাথে সাথে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এ প্রকল্পের জন্য প্রায় ২০০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখানে ২০৫টি প্লট ১৫৫ জন উদ্যোক্তার মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চামড়া শিল্পনগরীতে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ভবন, পুলিশফাঁড়ি, ফায়ার ব্রিগেড শেডসহ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরইবি কর্তৃক ১০ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অপর একটি নির্মাণাধীন।  এ ছাড়া সিইটিপি ও ডাম্পিংইয়ার্ড নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। এই সিইটিপি নির্মাণ কাজ বর্তমানে ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
ইঅ/চৌফে/শ৩৪৮