কুমিল্লায় পৃথক দুইটি খুন

কুমিল্লায় ছোট ভাইয়ের কিল-ঘুষি ও মারধরে বড় ভাই শাহ আলম (৩০) নিহত হয়েছেন। এছাড়া যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা রাজু মিয়া (২৩) নামের এক চালককে হত্যা করে সিএনজি ছিনিয়ে নিয়েছে। জেলার আদর্শ সদর ও বরুড়া উপজেলায় পৃথকভাবে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় আজ বৃহস্পতিবার পৃথক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের বানাসুয়া গ্রামের মৃত সানু মিয়ার পুত্র শাহ আলম তার মা পেয়ারা বেগমকে মারধর করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছোট ভাই ফারুক মিয়া (২৪) বড় ভাই শাহ আলমকে এতোপাতারি কিল-ঘুষি মারে ও মারধর করে। এতে শাহ আলম মারা যান। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ঘাতক ফারুক মিয়াকে আটক করা হয়েছে।
অপরদিকে গত বুধবার রাতে যাত্রীবেশী ৩ ছিনতাইকারী জেলার চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার পুত্র সিএনজি চালক রাজু মিয়ার সিএনজিটি (কুমিল্লা-থ-২৬৯১) চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে বরুড়া উপজেলার মহেশপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভাড়া করে। এসময় চালক রাজু মিয়া তার আত্মীয় সোহেলকেও সাথে নেয়।
বরুড়া থানার এসআই হারুন-অর রশীদ জানান, সিএনজিটি বরুড়ার নবীপুর-মহেশপুর মাঝামাঝি হাওড় এলাকার কালাগাজী ব্রিজের কাছে পৌঁছলে সেখানে অপেক্ষমান ছিনতাইকারীরা ব্যারিকেড দিয়ে সিএনজিটি থামায়। এ সময় গাড়িতে থাকা যাত্রীবেশী ৩ ছিনতাইকারীসহ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা চালক রাজু মিয়া ও তার আত্মীয় সোহেলকে সিএনজি থেকে নামিয়ে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে মারধর করে তাদের হাওড়ের মাঝখানে ফেলে সিএনজিটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সোহেল নিজের হাত-পায়ের বাঁধন ও মুখের স্কচটেপ খুলে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা গভীর রাতে চালক রাজুকে উদ্ধার করে অচেতন অবস্থায় চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত সোহেল বাদী হয়ে বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।