জাপানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় আসছেন আজ

 
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দুই দিনের এক সরকারি সফরে আজ শনিবার দুপুরে ঢাকায় আসছেন। জাপানি প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সফরে উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে জাপানের পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন আদায় করা আবের এবারের সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। গত ২৫-২৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফর করেন। ওই সময় তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর আগে ২০০০ সালে জাপানের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিরো মোরি সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।
সফরসূচি অনুযায়ী শিনজো আবে প্রায় সাড়ে ২১ ঘণ্টা ঢাকায় অবস্থান করবেন। এই সফরে শিনজো আবের সঙ্গে জাপানের ৫০ জনের উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, ৭৯ জন সাংবাদিকসহ ১৫০ জনের বেশি সফরসঙ্গী থাকছেন। শনিবার দুপুর একটায় একটি বিশেষ বিমানে করে জাপানি প্রধানমন্ত্রী ঢাকা আসবেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়া হবে। দুপুর ২টার দিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। সেখান থেকে তিনি পৌনে ৩টার দিকে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে যাবেন।
সেখান থেকে বেলা তিনটায় তিনি হোটেল সোনারগাঁওয়ে আসবেন। এরপর তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তৃতা করবেন। বিকাল ৪টায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক করবেন। সন্ধ্যা ৬টায় শিনজো আবে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন। সেখান থেকে হোটেলে ফেরার পর সন্ধ্যায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাত্ করবেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর তার সম্মানে প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবন শিনজো আবে। আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যাবেন শিনজো আবে। সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া সফরের প্রথমদিন জাপানি প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী আকি আবের জন্য পৃথক কমসূূচি প্রণয়ন করা হয়েছে।  জাপানি প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী বেলা ৩টার দিকে ব্যাপ্টিস্ট মিশন ইন্টেগরেটেড স্কুল (বিএমআইএস) ও সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা নার্সিং কলেজ পরিদর্শনে যাবেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছে জাপান। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সফরের সময় দুই দেশের সমর্থন আদায় করা হবে শিনজো আবের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাংলাদেশও এ পদে নির্বাচনে অন্যতম পদপ্রার্থী। যদিও এশিয়ার একটি দেশ এ পদে নির্বাচিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাপান চায় দেশটির সমর্থনে ২০১৬-১৭ মেয়াদে জাতিসংঘের অস্থায়ী সদস্য পদের নির্বাচনে বাংলাদেশ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করুক। গত মে মাসে টোকিওতে ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে রকম এক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। এ সময় জাপানের সমর্থনে বাংলাদেশ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবে কি না জানতে চাইলে মাহমুদ আলী স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি। ধারণা করা হচ্ছে, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জাপানের দেয়া সরকারি উন্নয়ন-সহায়তার আওতায় গত মে মাসের যৌথ ইশতেহারে যে সব প্রকল্পে সহায়তার কথা বলা হয়েছে তার পর্যালোচনা, বাংলাদেশের জ্বালানি, বিদ্যুত্ উত্পাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যাল, অটোমোবাইলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের বিনিয়োগ উত্সাহিত করার মতো বিষয়গুলো জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও সফরের সময় বাংলাদেশে ‘পিস বিল্ডিং সেন্টার’ প্রতিষ্ঠায় জাপান কারিগরি সহায়তা দিতে রাজি হয়। শিনজো আবের ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়টি আলোচনা হবে। বাংলাদেশে জাপানের একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া রফতানি বৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা কামনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরকালে তৈরি পোশাক রফতানিতে জাপানের রুলস অব অরিজিন অধিকতর শিথিলকরণ এবং অন্যান্য কিছু পণ্য যেমন পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম ও ওভেন টেক্সটাইলস, টেবিলওয়ার রফতানিতে করমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে আরও আলোচনা এবং অগ্রগতির সম্ভাবনা আছে।
 

 

ইঅ/চৌফে/শ৫৯২