শ্রমিক সংগঠনের হিসাব

তোবার শ্রমিকদের পাওনা ৪ কোটি টাকা

 
 
 
 
 
তোবা গ্রুপের ৫ কারখানা বন্ধ হওয়ার পর শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য পাওনার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। মালিক পক্ষ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করার পর শ্রম আইন অনুযায়ী, এক মাসের মূল বেতন ও শ্রমিকদের চাকরির কাল হিসেবে প্রতি বছরের জন্য এক মাসের মূল বেতনের হিসাবে পাওনার এ পরিমান দাঁড়াচেছ। শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তারের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন শ্রমিকদের পাওনার এ হিসাব করেছে। তোবা গ্রুপের কর্তৃপক্ষ ও গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকে ইতিমধ্যে পাওনার এ পরিমান জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তোবার ৫টি কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পর শ্রমিকরা তাদের পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। পাওনার পরিমাণ হিসাব করতে সমপ্রতি শ্রম মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে মালিক ও শ্রমিকদের নির্দেশ দেয়া হয়। এর ভিত্তিতে শ্রমিক সংগঠনটি হিসাব করে সম্ভাব্য পাওনার এই অংক ঠিক করেছে।
অবশ্য শ্রমিকদের এ হিসাবের সঙ্গে একমত নন তোবা’র মালিক দেলোয়ার হোসেন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, তারা তাদের মত হিসাব করে করুক। তবে তোবা কর্তৃপক্ষ হিসাব এখনো চূড়ান্ত করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, পাওনার পরিমান হিসাব করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয় থেকে আরো ৪দিন সময় নিয়েছি। তবে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করার মত কোন টাকা বা সম্পদ আমার কাছে নেই। বিমার টাকা পেলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারব।
তোবার ৫ কারখানার ৪টি শ্রমিক সংগঠন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের অধিভূক্ত। সংগঠনটির সভাপতি নাজমা আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানার বেতন প্রদানের তালিকা অনুযায়ী এসব কারখানায় ১ হাজার ৪৫৬ জন শ্রমিক কাজ করত। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০৬ জনের তথ্য সংগঠনের কাছে রয়েছে। তাতে দেখা গেছে, কোন শ্রমিক সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কাজ করেছে। আবার এক বছরের কম সময় কাজ করেছে এমন শ্রমিকও রয়েছে।
সেই হিসেবে শ্রমিকদের পাওনার পরিমান ঠিক করা হয়েছে। এতে ত্রুটি থাকলেও তা খুবই সামান্য হবে বলে দাবি করেন তিনি।
তাদের হিসাবে শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী তাইফ ডিজাইনের শ্রমিকদের পাওনার পরিমান দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। মিতা ডিজাইনের ২৬ লাখ ১৩ হাজার, বুকশান গার্মেন্টসের ৮৬ লাখ ৩৭ হাজার, তোবা ফ্যাশনের ৮০ লাখ ১৫ হাজার এবং তোবা টেক্সটাইলের ৯২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ১ মাসের মূল মজুরি প্রতি বছরের চাকরির জন্য এক মাসের মূল বেতন প্রযোজ্য হবে।
অবশ্য এই সংগঠনের পক্ষ থেকে আরো একটি হিসাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই হিসাবে শ্রমিকদের পাওনার পরিমান দাঁড়ায় ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। শ্রম আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, শ্রমিকদের পাওনার এ পরিমান নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, কোন কারণ ছাড়াই শ্রমিক ছাঁটাই করতে হলে শ্রমিকদের ৪ মাস আগে জানিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় ৪ মাসের মূল বেতনের সাথে প্রতি বছরের কাজের জন্য এক মাসের মূল বেতন এবং অন্যান্য পাওনাদি যুক্ত হবে।
অবশ্য তোবার ৫ কারখানার শ্রমিকদের পাওনার ক্ষেত্রে শ্রম আইনের ২৬ ধারা যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে করেন শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) এর সহকারি নির্বাহি পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, তোবার কারখানাগুলো দীর্ঘদিন থেকেই ঠিকমতো কাজ পাচ্ছিল না। ফলে শ্রমিকদের বেতন দেয়া যাচ্ছিল না। এই বিবেচনায় ২০ ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের পাওনা নির্ধারণ যৌক্তিক।
বাড্ডার হোসেন মার্কেট ও ফুজি টাওয়ারে অবস্থিত তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানার শ্রমিকদের গত মে মাস থেকে বেতন বকেয়া পড়ে। বকেয়া বেতনের দাবিতে জুনের ১০ তারিখ থেকে কাজ বন্ধ করে আন্দোলনে নামেন তারা। মালিকপক্ষের সংগঠন বিজিএমইএ’র মধ্যস্থতায়ও তারা বকেয়া বেতন পান নি। এই পরিস্থিতিতে গত ঈদের আগের দিন থেকে শ্রমিকরা কারখানা ভবনে অনশনে যেতে বাধ্য হন। এর মধ্যে শ্রমিকরা তিন মাসের বেতন পাওনা হন। নানা নাটকীয়তার পর গত মাসে দুই ধাপে বিজিএমইএতে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়। এর পর শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ। এই ধারা অনুযায়ী, কারখানা বন্ধ থাকলে শ্রমিকরা পাওনা দাবি করতে পারেন না। তবে এই প্রক্রিয়ায় কারখানা বন্ধ করা বৈধ হয় নি বলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর থেকে মালিকপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়। এর পর শ্রম মন্ত্রণালয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ৪ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনার পরিমাণ নির্ধারণ করতে মালিক ও শ্রমিকদের নির্দেশ দেয় শ্রম মন্ত্রণালয়।
 
ইঅ/চৌফে/শ৬২৫