বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম হত্যার রহস্য বের করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পুলিশ প্রথম থেকেই ছাত্রলীগ নেতা অনন্ত শ্রাবন বিষুকে সন্দেহ করে আসছিল। রবিবার রাতে পুলিশ ছাত্রলীগ নেতার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে রক্তমাখা অস্ত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে।
বগুড়ার গাবতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল জানান, নারীঘটিত কারণে বিষুর ভাড়া করা বাসায় নাঈমকে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। দৃবৃর্ত্তরা মৃত্যু নিশ্চিত করার পর লাশ গুম করার চেষ্টা করে। খাটের নিচে গর্ত খুড়ে লাশটি পুঁতে রাখার চেষ্টা করে। লাশ গুম করতে ব্যর্থ হলে এক পর্যায়ে পুড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে। পরে লাশটি বাজারের পাশ দিয়ে একটি গোয়ালঘরের কাছে নিয়ে যায় তারা। সেখানে পলিথিন ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে। লাশ পোড়ানোর যাবতীয় সরঞ্জামাদি না থাকায় রাত পোহানোর আগেই সেখান থেকে তারা সটকে পড়ে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পুলিশ সারিয়াকান্দি বাজারের দক্ষিণ পাশে (ভূমি অফিসের নিকট) বিষুর ভাড়া করা বাসায় অভিযান চালায়।
অভিযানে পুলিশ নাঈমের পাসপোর্ট সাইজের ছবি, কলেজের আইডি কার্ড, জুতা ও ম্যানিব্যাগ উদ্ধার করে। এছাড়াও নাঈমকে হত্যার সময় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি, চাপাতি,বটিসহ ৬টি অস্ত্র ও রক্তমাখা বালিশ-বিছানার চাদর উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার নাঈমের খোয়া যাওয়া বগুড়া-ল ১২-০৯৩৬ নম্বরের এ্যাপাচি মোটরসাইকেল রামকৃষ্ণপুর গ্রামের একটি ঘাসক্ষেত থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। পরে রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করলেও মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার কলেজ ছাত্র নাঈম বন্ধুদের হাতে খুন হয়। এরপর পুলিশ এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনন্ত শ্রাবণ বিষু, বাড়ইপাড়া গ্রামের আশিকুল ইসলামের ছেলে আতিকুর রহমান, জোড়গাছা গ্রামের সাহাদৎ মেম্বারের ছেলে সিহাব বাবু, ধুনট উপজেলার গোলার তাইড় গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির, চিকাশী ইউনিয়নের লিয়াকত আলীর ছেলে অন্তর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান।
ইত্তেফাক/নূহু