বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে এদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজে আবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে জাপানি উদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করবে জাপান সরকার। অবকাঠামোর উন্নতি করে বিনিয়োগে ভালো পরিবেশ গড়ে তুলতে জাপান বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এক অনুষ্ঠানের আয়োজ করে।
অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিলো বিনিয়োগ বোর্ড ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এসময় শিনজে আবে অবকাঠামের উন্নয়নে প্রধান তিনটি খাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
এগুলো হলো, বিদ্যুত্ ও জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ, নগর উন্নয়ন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বেসরকারি খাতের উন্নয়ন। তিনি বলেন, আমি আশা করি এ তিন খাতে জাপানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে দুদেশেরই কল্যান সাধন হবে বলে মনে করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে জাপানি বিনিয়োগ মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, ২০১৪ সাল দুদেশের জন্য একটি বিশেষ ও স্মরণীয় বছর হয়ে থাকবে। এসময়কালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর করেছেন এবং আমিও এ দেশ সফর করছি। আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন উচ্চতায় প্রবেশ করেছি। আমরা দু’দেশ যে সহযেগীতায় যাচ্ছি তা ভাই-বোনের মতো। এর মাধ্যমে আমাদের মধ্যে সহযোগীতা আরো বাড়াতে পারবো। এ সর্ম্পর্ক উন্নয়নে দুদেশের ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা বড় ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত মে মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো। ইতিমধ্যে ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে।
শিনজো আবে বলেন, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ, সেই উদ্যোগকে জাপান স্বাগত জানায়। বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, ব্যবসায়ী মীর নাসির হোসেন, শওকত হোসেনও বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া বিজনেস অধিবেশনে বাংলাদেশের দুজন ও জাপানের আটজন ব্যবসায়ী পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনের মাধ্যমে উভয় দেশের পণ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন।