এ কে খন্দকারের বই নিয়ে বিব্রত সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম

 
মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপতি ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার প্রকাশিত ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বইটি নিয়ে বিব্রত ফোরমের নেতৃবৃন্দ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে গঠিত সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালনরত থাকা অবস্থায় ‘বিভ্রান্তির তথ্য’ দিয়ে বই লিখবেন এমনটি ভাবতে পারেননি একই ফোরামের নেতৃবৃন্দ। ফেরামের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, বইয়েরে বক্তব্য একান্তভাবেই এ কে খন্দকারের নিজস্ব, যার বক্তব্য ও মন্তব্যের সাথে ফোরামের নীতি, আদর্শ  ও ঐতিহাসিক সত্য উপলদ্ধির কোন মিল নেই। আজ শনিবার সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নিয়মিত বৈঠক হবার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এ বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা অপ্রস্তুত ছিলাম। বিবৃতির মাধ্যমেই আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমরা অপেক্ষা করছি। আশা করছি, তিনি তার বইয়ের লেখা সংশোধন করবেন।’
আজ গণমাধ্যমে পাঠামো ফোরামের বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনতা দীর্ঘ ৪৩ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এ কে খন্দকার তার বইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ২৬ মার্চ ১৯৭১ এ প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা সম্পর্কে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন - যা আমরা চরম দূর্ভাগ্যজনক ও বস্তুনিষ্ট নয় বলে মনে করি। আমরা মনে করি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক সত্য যা সারা বিশ্বে সংরক্ষিত আছে। বইটিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সম্পর্কেও যে দাবি উত্থাপন করেছেন, তা বাস্তবতা বিবর্জিত। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর এমন বিভ্রন্তিকর বক্তব্য আমাদের হতবাক করেছে।
মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরাচার ও শোষণ নীপিড়নের বিরুদ্ধে জাতির ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রাম ও গণমানুষের আত্মত্যাগের চূড়ান্ত পরিনিতি, যার মূখ্য নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু এ কে খন্দকার তার বাইয়ে দূর্ভাগ্যজনকভাবে জাতির গৌরবোজ্জ্বল, সেই ঘটনাবলীর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সফল রাজনৈতিক নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দূরদর্শিতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন, যা আমাদের হতবাক করেছে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যে কোন ব্যক্তি ও ইতিহাস জ্ঞান প্রজন্ম দেশ বাসীর কাছে তার এসব বক্তব্য অনাকাঙ্খিত ও গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ কে খন্দকারের বহুল বিতর্কিত বইটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতিতে লিপ্ত দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের হাতে বিভ্রান্তি ছড়াবার নতুন অস্ত্র হিসাবে ব্যবহূত হতে পারে বলে আমাদের আশংকা। আমরা বইটির দ্রুত তথ্য সংশোধন ও পরিমার্জন আশা করছি এবং একই সঙ্গে এই বই এর ভুল  তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলকে আহবান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে সাক্ষর করেছেন, মেজর জেনারেল (অব) কে এম সফিউল্লাহ বীর উত্তম, মেজর জেনারেল (অব) সি আর দত্ত বীর উত্তম,  লে কর্ণেল (অব) আবু ওসমান চৌধুরী, কর্ণেল (অব ) সামসুল আলম, ম হামিদ, মেজর জেনারেল (অব) শাহজাহান, মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন আহমেদ, মোহা. নুরুল আলম, হারুন হবীব, নুরুল আলম, আনোয়ারুল আলম শহীদ প্রমুখ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ এনে বইটির লেখক এ  কে খন্দকারের শাস্তির দাবি জানান এমপিরা। সরকার, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র এমপিদের পক্ষ থেকে সংসদে এ দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে তার লেখা বইটি বাজেয়াপ্তের দাবি জানান তারা। তারা বলেন, জাতিকে বিভ্রান্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এ কে খন্দকার বিকৃত ইতিহাস সংবলিত বইটি লিখেছেন। কারও প্ররোচনায় কিংবা পরাজিত শক্তির দোসর কোন এজেন্সির টাকায় এ কে খন্দকার এ ধরনের বই লিখে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। কারও প্ররোচনায় কিংবা অন্য কোন নির্দেশে এ কে খন্দকার বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার চেষ্টা করেছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
এ ছাড়া সংসদের বাইরেও আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা পৃথক পৃথক সভায় বইয়ের পাশাপশি এ কে খন্দকারেরও তীব্র সমালোচনা করেন। যদিও বিএনপির নেতারা বলছেন, এ কে খন্দকার তার বইয়ে সত্য কথা লিখেছেন।
গত বুধবার প্রথমা থেকে প্রকাশিত এই বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। বইয়ে তিনি লিখেছেন, ৭ মার্চের ভাষণ ‘জয় পাকিস্তান’ বলে শেষ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।
 
ইঅ/চৌফে/শ৫৭৭