প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর সফররত জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চলে যাওয়ার পর জাপান প্রধানমন্ত্রী সোনারগাঁও হোটেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে মাত্র ১৮ মিনিট বৈঠক করেন রওশনের সঙ্গে।
বিরোধী দলীয় নেতার সংসদ ভবনস্থ কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছিল, সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে তার সঙ্গে জাপান প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শুরু হবে। তবে অনেক আগেই, সোয়া ৬টার দিকেই হোটেলে চলে আসেন রওশন এরশাদ। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য শিনজো আবে তখন বঙ্গভবনে। বঙ্গভবন থেকে তিনি হোটেলে ফেরেন ৭টার কয়েক মিনিট আগে। এরমধ্যে দলীয় নেতাদের নিয়ে খালেদা জিয়াও পৌণে ৭টার দিকে হোটেলে আসেন। খালেদা জিয়ার পর রওশনের সঙ্গে বৈঠক হবে জাপান প্রধানমন্ত্রীর, এটা ছিল পূর্ব নির্ধারিত। সাড়ে ৭টায় বৈঠক শুরুর আগ পর্যন্ত হোটেলে একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন রওশন এরশাদ। খালেদা জিয়াও দলীয় নেতাদের নিয়ে পৃথক একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন। তবে এইসময়ে কিংবা বৈঠকের আগে-পরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রওশনের দেখা হয়নি।
অন্য দিকে রওশন এরশাদ হোটেলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কোনো সময়সূচি ছিল না। মূলত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে অংশ নিতে বেশ আগেই হোটেলে এসেছিলেন এরশাদ। তবে রওশনের সঙ্গে বৈঠওে ছিলেন না তিনি, তার সঙ্গে তার দেখাও হয়নি। আর বৈঠক শেষে রওশন নিজ গন্তব্যে চলে যান, তিনি নৈশভোজে অংশ নেননি।
বৈঠক শেষে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতার বৈঠকে বাংলাদেশের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি। তাছাড়া এনিয়ে দেশে কোনো ক্রাইসিস (সংকট) আছে বলেও আমরা মনে করি না। আমরা নির্বাচন করে এসেছি, আমাদের কোনো প্রবলেম (সমস্যা) নেই। এনিয়ে আমরাও কথা তুলিনি, তিনিও (জাপান প্রধানমন্ত্রী) কথা বলেননি। বাংলাদেশকে কী ভাবে আরও এগিয়ে নেয়া যায়, তা নিয়েই কথা হয়েছে।’
তাজুল ইসলাম জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জাপান যত সহযোগিতা করেছে, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে যা যা করা দরকার, তা করতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাত নিয়ে ডিসেম্বরের শেষদিকে জাপান একটি ভালো খবর দেবে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর জানিয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে শিক্ষার প্রসারে ও নারী উন্নয়নে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেন শিনজো আবে। বৈঠকে রওশন এরশাদের সঙ্গে তাজুল ইসলাম চৌধুরী ছাড়াও জাপা দলীয় সংসদ সদস্য বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নান ও সেলিম উদ্দিন এবং বিরোধী দলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ উপস্থিত ছিলেন।
ইঅ/চৌফে/শ৩৯০