টেস্টেও এমন রান চান সাদমান

সাদমান ইসলামকে অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যত্ বলে মনে করা হয়।

যুব ক্রিকেটে অনেক আগেই আলো ছড়িয়েছেন। কিন্তু ঠিক মারকাটারি ব্যাটসম্যান নন বলে বাকি সতীর্থদের মতো রাতারাতি তারকা হয়ে যেতে পারেননি। আটোসাটো ডিফেন্স, প্রথমগত সব শট তাকে করে তুলেছে বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচের আদর্শ ক্রিকেটার। এবার জাতীয় লিগেও সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন।

নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই এইচপি, অ্যাকাডেমি হয়ে টেস্ট দলে এসেছেন। আর গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকও হয়ে গেছে তার। অভিষেকেই চোখ জুড়ানো এক ৭৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন নিউজিল্যান্ড সফরেও। দারুণ বাতাস মোকাবিলা করে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস শুরু করতে গিয়ে খেলেছেন ৬৭ রানের এক দৃঢ় ইনিংস। এই ইনিংস খেলার পর সাদমান বললেন, তিনি একা নন, সব ব্যাটসম্যান চাচ্ছেন, টেস্টেও এই অনুশীলন ম্যাচের মতো পারফরম করতে। নিউজিল্যান্ডের বেশ কিছু ভেন্যুতে খেলার একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ঝড়ো বাতাস। সাদমান বলছিলেন, সেটা গতকালও ভুগিয়েছে তাদের। তবে তিনি একটু আগে আগে নিউজিল্যান্ড আসায় চ্যালেঞ্জটা নিতে পেরেছেন বলে বলছিলেন, ‘এখানে আসার পর থেকে অনেক বাতাস দেখেছি। প্র্যাকটিস ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনেও অনেক বাতাস ছিল। আর এখানে সবাই বলছিল যে, ওয়েলিংটন, হ্যামিলটনে খেলতে গেলে অনেক বাতাস সামলাতে হবে। আমি তো এখানে এসেছি কয়েক দিন আগে। আমি দেখছি, অনেক বাতাস সামলাতে হয়। আমি সেইভাবেই আজ খেলার চেষ্টা করেছি। আমাদের কোচ (স্টিভ রোডস), তারপর নীল ম্যাকেঞ্জি বলেছিল, এখানে বাতাসের সাথে মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে। ওনারা বলেছে, বাতাসের সাথে আর বাউন্সে এডজাস্ট করতে হবে এবং বল যেরকমই আসুক শরীরের কাছে নিয়ে খেলতে। আমি ওরকমভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি।’

এই দারুণ বাতাসের মধ্যে বাউন্সি বল কিভাবে খেলতে হবে, সে নিয়ে কোচরা আগে থেকেই ধারণা দিয়ে রেখেছিলেন। সাদমান বললেন, সেই পরামর্শ মতো খেলেই রান পেয়েছেন তিনি, ‘আমি এখানে নামার পর চেষ্টা করেছি, কোচরা যেভাবে বলেছেন, সেই টেকনিকে খেলার জন্য। বলের জন্য ওয়েট করেছি। আমি শেষ পর্যন্ত বল দেখার চেষ্টা করেছি যে, কেমন সুই করে, কেমন হয় বল। আমি ওনাদের (কোচদের) পরামর্শমতো ব্যাট করেছি। আমার মনে হয়, এখানে কয়েকদিন আগে আসায় আমি ভালো মানিয়ে নিতে পেরেছি। এখন চেষ্টা করবো মূল ম্যাচে সুযোগ পেলে যেনো এরকম ব্যাট করতে পারি। শেষ পর্যন্ত দেখে যেনো ভালো ভাবে ব্যাট করতে পারি।’

তরুণ এই ওপেনার মনে করেন অনুশীলন ম্যাচে তাদের এই রান পাওয়াটা মূল টেস্ট ম্যাচের জন্য দারুণ উপকারের ব্যাপার হবে, ‘আজকের ব্যাটিংয়ের ফলে এটা বুঝতে পেরেছি যে, এখানে কীভাবে খেলতে হবে। উইকেট কেমন হবে, সেই ধারণা একটু পেয়েছি। ওদের পেস বোলার, যাদের আমরা ফেস করেছি, এরা সবাই ভালো বল করে। আমাদের ভালো দিক হলো, আজ আমরা কুইক বোলারদের বিপক্ষেই রান করেছি। আমাদের চেষ্টা থাকবে যে, আজকে যেরকম ব্যাটিং করেছি, মূল ম্যাচেও যেনো একইরকম এফোর্ট দিয়ে ব্যাটিং করতে পারি। আজকে যেরকম প্যাশন নিয়ে সবাই ব্যাটিং করেছে, আশা করি মূল ম্যাচেও সবাই সেটা করবে।’