দক্ষিণ এশিয়ায় অশুল্ক বাধা নিয়ে প্রতিবেদন

সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানি হচ্ছে না অনেক পণ্য

 
 
 
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের সুযোগ থাকা সত্বেও বাণিজ্য হচ্ছে না অশুল্ক কাঠামো বা বাধার কারণে। বাংলাদেশেই অন্তত ৪৯টি পণ্য রয়েছে যা ভারতে রপ্তানি করা যায়। কিন্তু অশুল্ক বাধার কারণে তা হচ্ছে না। অথচ ভারত এ পণ্যগুলো অন্য দেশগুলো থেকে আমদানি করছে। বিভিন্ন সময়ে এসব অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়ে আলোচনা করে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও তার স্থায়ী সমাধান হয়নি। আজ বুধবার দক্ষিণ এশিয়ায় অশুল্ক বাধা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। প্রতিবেদনেও এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (এসএএনইএম) যৌথভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।
অনুষ্ঠানে এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট রোকেয়া আফজাল রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ ছাড়া ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, এমসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি কামরান টি রহমান এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারত তাদের বাজারে দুটি পণ্য বাদে আমাদের সব পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। এর পরও কিছু অশুল্ক বাধা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব বাধা দূর করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আমরা এক সময় শিশু শ্রমিক ইস্যুতে খুব নাজুক অবস্থায় ছিলাম। বর্তমানে তা উতরে উঠেছি। এখন রানা প্লাজাকে কেন্দ্র করে কিছুটা চাপ রয়েছে। এ বিষয়গুলোকেও সামলে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছ থেকে জিএসপি সুবিধা পেয়েছে। এতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। তাই প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে ড. সেলিম রায়হান বলেন বলেন, বাংলাদেশের ৪৯টি পণ্য রয়েছে যা ভারতে রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও মোটেও রপ্তানি হয় না। ভারতেরও এমন ৩৪টি পণ্য রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অনেক পণ্যই রয়েছে যা এক অপরের মধ্যে রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও অশুল্ক বাধার কারণে হচ্ছে না। তাই বাণিজ্য বাড়াতে শুধু ট্যারিফ মুক্ত হলেই হবে না, অশুল্ক বাধাও দূর করতে হবে। ড. সেলিম রায়হান বলেন, এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশভিত্তিক কোন কোন পণ্য কোন কোন দেশে আমদানি ও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি ও রপ্তানির সম্ভাব্যতা এবং তা বাস্তবায়নে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পণ্য বাণিজ্যে পরিবহন খরচ কমানোর বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট রোকেয়া আফজাল রহমান বলেন, এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। কারণ এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একে অপরের মধ্যে যেসব পণ্য রপ্তানি ও আমদানি করার সুযোগ রয়েছে কিন্তু তা হচ্ছে না কিংবা হলেও তা খুব নগণ্য তা চিহিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কাজ করতে পারে। তাছাড়া এ প্রতিবেদনে কিছু নীতিগত সুপারিশ সাফটা কমিটির কাছে দেয়া হয়েছে যেন সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। আশা করি, এ সব বিষয় বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের বাণিজ্য বাড়বে।
 

 

ইঅ/চৌফে/শ৪৫০